বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২রা জুন ২০২৬ সকাল ০৯:৫৩
৭২
বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : ষাটের দশকের গণআন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তোফায়েল আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে হাসপাতালে মারা গেছেন।
তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি আইসিইউর সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রায়হান রাব্বানীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
তোফায়েল আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদ গত বছরের ২০ নভেম্বর মারা যান। তাদের একমাত্র সন্তান তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী একজন চিকিৎসক।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তোফায়েল আহমেদের জন্ম। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর নেতৃত্বের ভূমিকা তাকে দেশের মানুষের সামনে পরিচিত করে তোলে।
এরপর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদের রাজনীতিতে পথচলা শুরু ছাত্রলীগের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হলের (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।
১৯৬৮-৬৯-এ গণআন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার।
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার সেই সম্মেলনে শেখ মুজিবর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন তোফায়েল আহমেদ।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়সহ অসংখ্যবার কারাভোগ করেন প্রবীণ এ রাজনীতিক।
নিজেকে ‘আওয়ামী লীগের তোফায়েল’ পরিচয় দিতেই গর্ববোধ করতেন তোফায়েল আহমেদ।
তার প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের অবসান ঘটলো। তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের বহু ঐতিহাসিক বাঁক পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও কারিগর। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় নাম তোফায়েল আহমেদ। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রবাদপ্রতিম সারথী তিনি।
ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে ১৯৬০ সালে তৎকালীন ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর ভর্তি হন বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে। সেখান থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি এবং ১৯৬৪ সালে বিএসসি সম্পন্ন করেন। ব্রজমোহন কলেজে স্নাতক শেষে তোফায়েল ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে; মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে করেন স্নাতকোত্তর।
বাংলাদেশর রাজনীতির ইতিহাসে তিনি অন্যতম দিকপাল। তার চিরবিদায়ে বাংলার আকাশ থেকে খসে পড়লো এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির মূল মঞ্চ সবখানেই যিনি রেখে গেছেন স্বকীয়তার স্বাক্ষর। সেই তোফায়েল আহমেদ আজ পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।
জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব :
স্বাধীনতার পর তোফায়েল আহমেদ হয়ে ওঠেন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি মোট নয় বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচেন ভোলার দৌলতখান-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে ‘মুজিব বাহিনী’র অঞ্চলভিত্তিক চার প্রধানের একজন ছিলেন তোফায়েল। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা সমন্বয়ে গঠিত পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
তোফায়েল আহমেদ নৌকা প্রতীক নিয়ে মোট ১২ বার নির্বাচন করেছেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে প্রথম ভোটে বিজয়ী এ রাজনীতিক ৮০ বছর বয়সে জয়ের মালা গলায় পরেছেন। সবশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন।
রাজপথের সেই সাহসী কণ্ঠস্বর, সংসদ কাঁপানো সেই তুখোড় বক্তা আর কখনো ফিরবেন না। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে, বিশেষ করে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামটির সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের নাম জড়িয়ে থাকবে চিরকাল।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক সবমিলিয়ে নয়বার এমপি হয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ, ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন। এসব নির্বাচনে তিনি জনগণের বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
১৯৯৬ সালে তৎকালীন সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০১৪-২০১৯ মেয়াদেও তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং পরবর্তীকালে দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ঝড়-ঝঞ্ঝায় রাজনৈতিক পথ:
মুজিবনগর সরকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংগঠক তোফায়েল স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব করে নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ওই পদে বহাল ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবন যেমন ছিল সাফল্যের, তেমনই ছিল কণ্টকাকীর্ণ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক জান্তা তাকে গ্রেফতার করে। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়, রাখা হয় ময়মনসিংহ কারাগারের কনডেম সেলে। পরে কুষ্টিয়া কারাগারে তাকে স্থানান্তর করা হয়। তখন দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারাভোগ করেন।
সে সময় তার সহকারী ব্যক্তিগত সচিব মিন্টুকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। কুষ্টিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালে তোফায়েল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগেও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাকে কারাবরণ করতে হয়। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ সবসময়ই ছিলেন দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগ পর্যন্ত তিনি জনমানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে ভোলার মানুষের কথা বলে গেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন :
পারিবারিক জীবনে তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৪ সালে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র কন্যা তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী একজন চিকিৎসক। তবে তিনি পরম পিতৃ স্নেহে আগলে রেখেছিলেন তার বড় ভাইয়ের ছেলে মাইনুল হোসেন বিপ্লবকে। একটি দেশের ইতিহাস তৈরি হয় কিছু মানুষের হাত ধরে। তোফায়েল আহমেদ ছিলেন তেমনই একজন মানুষ, যিনি নিজেই ছিলেন ইতিহাসের একেকটি জীবন্ত দলিল।
এ দিকে তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। মৃত্যুর দুই ঘণ্টা পর দলটির ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, ‘বিদায়ৃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য, বর্ষীয়ান নেতা, রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব তোফায়েল আহমেদ... আমরা শোকাহত!’
তোফায়েল আহমেদের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার বাদ মাগরিব ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ রাখা হয় স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে। মঙ্গলবার জন্মভিটা ভোলায় আনা হবে তাকে। সেখানে বাদ জোহর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের এ প্রাণপুরুষকে।
পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী
সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
ভুয়া খবর মোকাবিলায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া চাইলেন তথ্যমন্ত্রী
শিশু নির্যাতন রোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান ফারজানা শারমীনের
সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেন বিমানমন্ত্রী!
ভারতের জেন-জি কী চায়, মোদীর গদি কি টিকবে?
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিশাল সমাবেশ, দেশে ফিরলেন প্রতিষ্ঠাতা
ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে নৌযান সংকটে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার
ভোলায় তীব্র তাপদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক