অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ১৯শে আগস্ট ২০২৬ | ৪ঠা ভাদ্র ১৪৩৩


ভোলায় চরনোয়াবাদ মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনর্মিলনী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১লা জুন ২০২৬ সকাল ১০:৩৯

remove_red_eye

১১৭

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৩৪টি বছর। এতদিন সরাসরি দেখা হয়নি অনেকেরই সঙ্গে। হয়তো কয়েকজনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে মাঝে মধ্যে। আজ স্কুলজীবনের সেই বন্ধুরা একদম কাছাকাছি দাঁড়িয়ে।
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর স্কুলজীবনের বন্ধুদের স্কুলে পেয়ে আগের মতো গলা ধরে দাঁড়িয়েছেন তারা। নিচ্ছেন একে অপরের খোঁজ। যদিও তাদের বয়স এখন পঞ্চাশের কাছাকাছি। কিন্তু তাদের একে অপরকে চিনতে ভুল করেননি। পুরোনো বন্ধুদের কয়েক ঘণ্টার জন্য স্কুলে পেয়ে খুবই খুশি ও আনন্দিত দেখাচ্ছিল তাদের। 

শনিবার (৩০ মে) সকালে এমনই দৃশ্য দেখা গেল ভোলা সদরের চরনোয়াবাদ মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে। ১৯৮৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যারা চরনোয়াবাদ মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন, তাদের নিয়ে এই পুনর্মিলনী আয়োজন করা হয়।
স্কুল প্রাঙ্গণে সঙ্গে কথা হয় চার বন্ধু বজলুল রহমান (৫১), নাজমুল হক (৫২), কামরুল হাসান (৫০) ও খায়রুল আলমের সঙ্গে (৫১)। এসময় তারা তুলে ধরনের সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি।
বজলুর রহমান জানান, তিনি বর্তমানে সেলটেক সিরামিক ফ্যাক্টরিতে ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। বেশ কয়েক মাস আগে চরনোয়াবাদ মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৯৯৮, ৯৯, ২০০৩ ও ২০০৭ সালের কিছু শিক্ষার্থী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাকে বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যারা চরনোয়াবাদ মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন, তাদের নিয়ে একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।

তিনি বলেন, ‘শুনে আমি খুবই খুশি হয়েছি এই ভেবে যে, দীর্ঘদিন পর আমাদের স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে। কিন্তু কিছুটা চিন্তায়ও ছিলাম। আমাদের বয়স তো এখন পঞ্চাশের ওপরে। আমরা তো ১৯৯২ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী দিয়েছি। তখন তো আমরা ১৬-১৭ বছরের তরুণ ছিলাম। এত বছর পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে তাদের কি আমি চিনতে পারবো? আবার তারা কি আমাকে চিনতে পারবে?’
বজলুর রহমান বলেন, ‘অবশেষে সবকিছু ফাইনাল হলো। শুক্রবার (২৯ মে) রাতে অপেক্ষা করতে থাকি কখন সকাল হবে আর কখন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে। বিশেষ করে নাজমুল হক, কামরুল হাসান ও খায়রুল আলম কি আসবে? স্কুলজীবনে তো আমরা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছি। সেই ১৯৯২ সালে স্কুলের মধ্যে শেষ দেখা হয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে। আজ সকালে স্কুলে প্রবেশ করে প্রথমে ওদের খুঁজতে থাকি। এসময় কিন্তু ওরাও আমাকে খুঁজছিল। দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একে অপরের গলা ধরে দাঁড়িয়ে একে অপরের খোঁজ নিলাম।’
বর্তমানে সদর উপজেলার রেজিস্টারি অফিসে নকলনবিশ হিসেবে কর্মরত আছেন নাজমুল হক। ১৯৯২ সালের এসএসসি পাস করার পর তার আর স্কুলে যাওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমরা স্কুলজীবনের বন্ধুরা বিভিন্ন কলেজে পড়াশোনা করায় এতদিন কারও সঙ্গে দেখা হয়নি। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আজ ওদের দেখতে পেরে আমি অনেক খুশি। যারা এমন উদ্যোগ নিয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানাই।’
‘স্কুলে প্রবেশ করেই সেই স্কুলজীবনের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গেল। বিশেষ করে আমাদের চার বন্ধুর অনেক দুষ্টুমি ও স্কুল ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখাসহ বিভিন্ন স্মৃতি। কিন্তু আমরা যতই দুষ্টু ছিলাম না কেন, পড়াশোনায় অনেক ভালো ছিলাম। আমরা চার বন্ধুই ফার্স্ট ডিভিশন পেয়েছি। আমাদের ১৯৯২ সালের ব্যাচে মোট ৩২ জন পরীক্ষা দিয়েছি। এরমধ্যে ১৪ জনই ফার্স্ট ডিভিশন পেয়েছি।’

ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ব্যাংকেরহাট কো. অপারেটিভ কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুল হাসান। তিনি বলেন, ‘এসএসসি পাসের পর কলেজে ভর্তি, পড়াশোনার ব্যস্ততা। পরে এলো চাকরিজীবন। জীবন ব্যস্ততার আবর্তে পড়ে যাওয়ায় পুরোনো বন্ধুদের খোঁজ নেওয়া হয়নি। দেখা-সাক্ষাত নেই কয়েক যুগ। সেই বন্ধুদের আজ কাছে পেয়ে সারাটা দিন খুবই ভালো কাটলো। মনে হলো সেই তারুণ্যে ফিরে গেছি।’

‘স্কুলে প্রবেশ করেই পুরোনো বন্ধুদের ঠিকই খুঁজে বের করতে পরেছি’ বলে মন্তব্য করলেন ব্যবসায়ী খায়রুল আলম। তিনি বলেন, ‘যদিও সবাই আমরা বুড়ো হয়ে গেছি কিন্তু চিনতে সমস্যা হয়নি। সবাই সেই আগের মতই আছে।’

খায়রুল আলম বলেন, ‘স্কুলে প্রবেশ করে আমি দেখলাম সব পরিরর্তন হয়েছে। স্কুলে সেই আমাদের শিক্ষক আবু তাহের স্যার নেই, ফরিদা ইয়াসমিন ম্যাডামসহ কেউ নেই। এরমধ্যে শুনেছি, তাহের স্যার মারা গেছেন।’

স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন স্কুলের টিনশেড বেড়া, ওপরে গোলপাতার ছাউনি ছিল। বৃষ্টি হলে পানি পড়তো, আমরা ভিজে যেতাম। যেদিন পড়া না পারতাম বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতাম। কারণ বৃষ্টি হলে তো স্যার ক্লাসে আসবে না। এখন তো সব পাকা ভবন হয়েছে। তাহের স্যার আমাদের ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন। পড়া না পারলে মারতেন কিন্তু ভালোও বাসতেন। স্যার বলতেন, একদিন বুঝবে কেন শাসন করেছি। সত্যি আজ বুঝছি।’
কথা হয় পুনর্মিলনীর আয়োজক আরিফু রহমান, নুরে আলম, জিয়া ফরাজী, মো. সোহাগ ও মো. হিরনের সঙ্গে। তারা বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম হাজারেরও বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হবে, কিন্তু সাড়ে তিনশোর মতো উপস্থিত ছিল। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠান হওয়ায় অনেকের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারা যায়নি। তারপরও অনুষ্ঠান সুন্দর হয়েছে। আগামীতে আরও সুন্দর হবে আশা রাখি।’





ভোলায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

ভোলায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

বোরহানউদ্দিনে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের প্রধানসহ গ্রেপ্তার-৩

বোরহানউদ্দিনে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের প্রধানসহ গ্রেপ্তার-৩

ভোলার মেঘনায় ভয়াবহ ড্রেজারডুবি ৩ জন উদ্ধার নিখোঁজ-১

ভোলার মেঘনায় ভয়াবহ ড্রেজারডুবি ৩ জন উদ্ধার নিখোঁজ-১

ভোলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কমিটি থেকে যুগ্ম সম্পাদকের পদত্যাগ

ভোলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কমিটি থেকে যুগ্ম সম্পাদকের পদত্যাগ

মনপুরায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কমিটি অনুমোদন

মনপুরায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কমিটি অনুমোদন

চরফ্যাসনে জলাবদ্ধতা নিরসন করলেন যুবদলের নেতা আতিক ওসমানি

চরফ্যাসনে জলাবদ্ধতা নিরসন করলেন যুবদলের নেতা আতিক ওসমানি

চরফ্যাশনে কুইজ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

চরফ্যাশনে কুইজ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

দৌলতখানে সাঁতার প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

দৌলতখানে সাঁতার প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

লালমোহনে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

লালমোহনে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

আরও...