অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৭ই জুন ২০২৬ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ঈদযাত্রায় ইলিশা-মৌজুচৌধুরীহাট নৌপথে যাত্রীদের দুর্ভোগ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫শে মে ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:২৩

remove_red_eye

১১২

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : রোববার অফিস-আদালত ও কল-কারখানা বন্ধ হতেই চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত ভোলার মানুষ ঈদ উপলক্ষে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে ইলিশা-মজুচৌধুরীহাট নৌপথে লঞ্চ ও সিট্রাক সংকট, নদীতে নাব্যতা হ্রাস এবং জোয়ার-ভাটার কারণে নির্ধারিত সময়ে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
বৈধ নৌযান না পেয়ে অনেকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ স্পিডবোট ও ট্রলারে মেঘনা নদী পার হচ্ছেন। এতে একদিকে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।


একাধিক যাত্রী জানান, রোববার রাতেই তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ভোর সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট লঞ্চঘাটে পৌঁছান। কিন্তু তখন ভাটার কারণে নদীতে পানি কম থাকায় লঞ্চ ও সিট্রাক চলাচল বন্ধ ছিল। পরে জোয়ার এলে নৌযান ছাড়ে। এ সময় অনেকে বাধ্য হয়ে স্পিডবোট ও ট্রলারে নদী পার হন।
যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চ ও সিট্রাকের ভাড়া ২০০ টাকা হলেও স্পিডবোটে ৫০০ টাকা এবং ট্রলারে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
তারা আরও জানান, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলে ভোলার বিপুল সংখ্যক মানুষ চাকরি করেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষও এ নৌপথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এ নৌপথে পর্যাপ্ত নৌযানের অভাব রয়েছে। জোয়ার-ভাটা মেনে চলতে হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। বর্তমানে এ রুটে দুটি লঞ্চ ও চারটি সিট্রাক চলাচল করছে, যা যাত্রীর তুলনায় অপ্রতুল বলে দাবি তাদের।
বিআইডব্লিউটবএ সূত্র ও যাত্রীরা বলেন, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা নদীর এ অংশ উত্তাল ও সাগরসম বিপদজনক থাকে। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়ায় দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তাই ঈদকে সামনে রেখে নিরাপদ ও বৈধ নৌযানের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে নদীপথ খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনারও দাবি জানান তারা।


ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, “লঞ্চ ও সিট্রাক মালিকদের বলা হয়েছে, যতক্ষণ যাত্রী থাকবে ততক্ষণ পারাপার চালু রাখতে। সকালে নদীতে পানি কম থাকায় লঞ্চ ছাড়তে পারেনি। ভাটার সময় চরে আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক যাত্রী স্পিডবোটে ওঠেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে লঞ্চ বা সিট্রাক চরে আটকে গেলে যাত্রীরা ট্রলারে উঠে যান।”
তিনি আরও বলেন, “যারা সিট্রাকে ঘাটে ফিরে এসেছে, তাদের ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন না। পরে তারা আসার পর স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।”