অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ১৯শে আগস্ট ২০২৬ | ৪ঠা ভাদ্র ১৪৩৩


ভোলার স্মৃতিতে এখনও উন্নয়নের মানুষ নাজিউর রহমান


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ই এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:১৯

remove_red_eye

২৪১

।। রফিকুল ইসলাম।। 

৬ এপ্রিল। দিনটি কেবল একটি তারিখ নয়, ভোলার অনেক মানুষের কাছে ফিরে দেখা এক নাম, “ মন্জু মিয়া “। যার পুরো নাম মোঃ নাজিউর রহমান মঞ্জুর।
 ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। কথা বলে যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল, দেড় যুগ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি হারিয়ে যাননি মানুষের স্মৃতি থেকে। বরং সময়ের সঙ্গে ‘মন্জু মিয়ার’ নাম আরও বেশি করে জড়িয়ে গেছে ‘উন্নয়ন’ শব্দটির সঙ্গে।

দৌলতখানের এক গ্রামীণ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে কথা হয় ভ্যানচালক আবদুল মালেকের সঙ্গে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই যাত্রী টানেন তিনি। কথার ফাঁকে বললেন, এই রাস্তাগুলো আগের মতো ছিল না। আমরা চলতেই পারতাম না। মঞ্জুর সাহেবের সময় থেকে বদল শুরু হয়।
কিছু দূরে, রাস্তার ধারে তরমুজ বিক্রি করছেন রহিম মাঝি। গরমের রোদে বসে থেকেও তাঁর কথায় কৃতজ্ঞতার সুর, আমরা গরিব মানুষ, রাজনীতি বুঝি না। কিন্তু তখন কাজ হইছিল, রাস্তা হইছিল, স্কুল হইছিল, এইডা মনে আছে।
একই চিত্র চরাঞ্চলেও। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো গ্রামগুলোতে গিয়ে দেখা গেল, নামটি এখনও উচ্চারিত হয় সহজ ভরসার জায়গা থেকে। স্থানীয় এক বৃদ্ধ কৃষক বললেন, অনেক নেতা আইছে-গেছে, কিন্তু উন্নয়নের কথা মনে করলে মঞ্জুরের কথাই আগে মনে পড়ে।
এই স্মৃতির ভেতরে শুধু আবেগ নয়, আছে বাস্তবতার ছাপও। স্থানীয়দের ভাষ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগ, এবং গ্রামীণ অবকাঠামো খাতে তাঁর সময়েই দৃশ্যমান পরিবর্তনের শুরু।
রাজনীতির মঞ্চে তিনি ছিলেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ঢাকার মেয়রসহ বহু পরিচয়ের অধিকারী। কিন্তু ভোলার মানুষের কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়, একজন ‘কাজ করা মানুষ’।

২০০৮ সালের ৬ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হলেও, ভোলার জনজীবনে তাঁর উপস্থিতি যেন মুছে যায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছে সেই স্মৃতি।
আজকের ভোলায় উন্নয়নের নতুন গল্প লেখা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই গল্পের শুরুতে এখনও অনেকে উচ্চারণ করেন একটি নাম, নাজিউর রহমান মঞ্জুর।
১৯৪৯ সালের ১৯ মার্চ, তৎকালীন পূর্ব বাংলার বাকেরগঞ্জ জেলার ভোলা মহকুমার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম। বালিয়ার-তালুকদার বংশের উত্তরসূরি মঞ্জুরের শিকড় ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের গভীরে। 
পরিবার, বংশ, ঐতিহ্য মিলিয়ে তিনি ছিলেন একদিকে ঐতিহ্যের ধারক, অন্যদিকে আধুনিক রাজনীতির মুখ।
ছোটবেলা গ্রামে, তারপর বরিশালের এ. কে. স্কুলে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই মেধার স্বাক্ষর। 
ইউটিসির ক্যাডেট হিসেবে শৃঙ্খলার ভিত গড়ে ওঠে। সেই শৃঙ্খলা তাঁকে নিয়ে যায় ঢাকায়, ছাত্ররাজনীতির অন্দরমহলে। কায়েদে আজম কলেজ, পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর রাজনৈতিক চেতনার বিস্তার।
ষাটের দশকের উত্তাল সময়, গণ-আন্দোলন, ছাত্ররাজনীতি, সবকিছুর ভেতরেই ছিলেন সক্রিয়। ১৯৬৯-এর আন্দোলন, তারপর মুক্তিযুদ্ধ। ৯ নম্বর সেক্টরে অস্ত্র হাতে লড়েছেন। শুধু বক্তৃতার নেতা নন, মাঠের মানুষ পরিচয়টাই তাঁকে আলাদা করে দেয়।
রাজনীতির বড় মঞ্চে তাঁর উত্থান জাতীয় পার্টি-র হাত ধরে। ১৯৮৬ সালে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি পৌঁছে যান জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। 
এরপর দায়িত্ব পান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের। প্রশাসনিক দক্ষতা আর সংগঠনের ক্ষমতা, দুইয়ের সমন্বয়ে তিনি হয়ে ওঠেন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
ঢাকা শহরও তাঁকে দেখেছে অন্য ভূমিকায় মেয়র হিসেবে। নগর পরিচালনা থেকে গ্রামীণ উন্নয়নে দুই প্রান্তেই তাঁর কাজের ছাপ ছিল স্পষ্ট।
কিন্তু শুধু রাজনীতি নয়, মঞ্জুরের আরেকটি পরিচয় ছিল নির্মাতা হিসেবে। ভোলার মাটিতে তিনি গড়ে তুলেছেন স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজও তাঁর স্মৃতিকে বহন করছে নীরবে। যেন প্রতিটি ইট বলছে, একজন মানুষ ছিলেন, যিনি স্বপ্ন দেখতেন তাঁর জনপদ নিয়ে।
২০০০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। গরুর গাড়ি প্রতীকের দলটি ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের আরেক প্রকাশ, গ্রামীণ বাস্তবতা ও মানুষের সঙ্গে সংযোগের প্রতীক।
২০০৮ সালের এই দিনে, ৬ এপ্রিল, থেমে যায় তাঁর জীবনের পথচলা। কিন্তু ভোলার গল্পে তিনি এখনও জীবিত। নদীর ঢেউ, বাজারের আড্ডা, কিংবা কোনো স্কুলের বারান্দায়, কোথাও না কোথাও উঠে আসে তাঁর নাম।





তজুমদ্দিনে মহিষের বাছুরের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি

তজুমদ্দিনে মহিষের বাছুরের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি

কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, আগামীকাল ভোটগ্রহণ : সিইসি

ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, আগামীকাল ভোটগ্রহণ : সিইসি

গণমাধ্যম বাংলাদেশে এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে : তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যম বাংলাদেশে এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে : তথ্যমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈঠকে বসেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যগণ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈঠকে বসেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যগণ

কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ৫ জন বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ৫ জন বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে ফেরত আনল বিজিবি

আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে ফেরত আনল বিজিবি

১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে নতুন কমিশন: দুদক চেয়ারম্যান

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে নতুন কমিশন: দুদক চেয়ারম্যান

আরও...