অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর ২০২৬ | ২০শে আশ্বিন ১৪৩৩


সরকারের সংস্কার উদ্যোগ বইয়ের বাংলা সংস্করণ প্রকাশ


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ০৪:১১

remove_red_eye

২৪৫

অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত প্রধান সংস্কার উদ্যোগসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ সম্বলিত ‘রিফর্ম বুক’-এর বাংলা সংস্করণ প্রকাশ করেছে সরকার।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আজ সকালে বইটির পিডিএফ কপি শেয়ার করেছে।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি বইটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করা হয়।

ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশের সময় প্রেস উইং সংস্কারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ‘এনাফ ইজ এনাফ’ স্লোগানে রাজপথে নামা লাখো মানুষের সাহসিকতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন যাত্রা শুরু করে। তরুণ-তরুণীদের নেতৃত্বে গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রায় ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে দেশ বেরিয়ে আসতে শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। গভীর সংকটময় পরিস্থিতিতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

প্রেস উইং জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার একটি গভীর অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক বিপর্যস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পায়। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে পড়ে, শত শত বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়, বিপুল খেলাপি ঋণে ব্যাংক খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো রাজনৈতিক ও ব্যক্তি স্বার্থের অধীন হয়ে যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিচার বিভাগ দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে স্বাধীনতা হারায়, ভোটারবিহীন নির্বাচন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন এবং খাতভিত্তিক সুপারিশ আহ্বান করে।

কমিশনগুলোর প্রতিবেদন এবং সরকারের নিজস্ব উদ্যোগের ভিত্তিতে দায়িত্বকালীন সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য ব্যাপক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

দায়িত্ব গ্রহণের পর গত আঠারো মাসে প্রায় ১৩০টি আইন (নতুন ও সংশোধিত) প্রণয়ন এবং ৬০০-র বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে প্রেস উইং জানায়।

অর্থনীতি ও বিদেশ নীতি সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। নতুন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে অংশীদারিত্ব বহুমুখীকরণ ও একক বাজারের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করা হয়েছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় প্রায় ৭ হাজার ৪০০টি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। চীনের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতায় ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবিদ্যুৎ তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাভিত্তিক কাঠামোয় পুনর্গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় আগের সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী শত শত রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ বা স্থগিত করা হয়েছে।

ব্যাংক খাতে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা চালু, ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা খাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে এক হাজার ২০০-র বেশি কর্মকর্তাকে তদন্তাধীন অবস্থায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং হাজার হাজার সদস্যের জন্য মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে।

বিশেষ কমিশনগুলো হাজারো ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সাক্ষ্য গ্রহণ করে সত্য ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন পুনর্গঠন করে এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ রাখা হয়েছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সব আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় বিচারপতি নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পূর্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো গণমাধ্যমও বন্ধ করা হয়নি বলে প্রেস উইং জানায়।

সংবিধান সংস্কারের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সনদে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, কার্যকর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং স্বৈরশাসনে প্রত্যাবর্তন রোধে সাংবিধানিক সুরক্ষা সংযোজনের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রেস উইং জানায়, এই সংস্কারগুলো নাগরিককেন্দ্রিক নতুন শাসনব্যবস্থা গঠনের প্রথম পদক্ষেপ। এতে আরও বলা হয়, ‘কাজ এখনও অনেক বাকি; ষোলো বছরের ক্ষয়ক্ষতি আঠারো মাসে পূরণ সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে স্বৈরশাসন থেকে সরে এসেছে।’

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে রাজপথে যে সাহসিকতা দেখা গেছে, তা গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের চলমান প্রক্রিয়াকে অনুপ্রাণিত করছে বলে প্রেস উইং উল্লেখ করে।





ভালোবাসার এক অদ্ভুত রসায়ন মান্নান স্যার

ভালোবাসার এক অদ্ভুত রসায়ন মান্নান স্যার

লালমোহনে মা ইলিশ সংরক্ষণে টাস্কফোর্সের সভা ২২ দিন নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ

লালমোহনে মা ইলিশ সংরক্ষণে টাস্কফোর্সের সভা ২২ দিন নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ

লালমোহনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

লালমোহনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

তজুমদ্দিনে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে গিয়াস

তজুমদ্দিনে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে গিয়াস

ভোলায় তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষানবিশ নির্বাচনে কমিউনিটি আউটরিচ সভা

ভোলায় তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষানবিশ নির্বাচনে কমিউনিটি আউটরিচ সভা

দৌলতখানে সদ্য যোগদানকৃত শিক্ষকদের এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা

দৌলতখানে সদ্য যোগদানকৃত শিক্ষকদের এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ভোলায় শিক্ষকদের মর্যাদা ও সুরক্ষার আহ্বান

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ভোলায় শিক্ষকদের মর্যাদা ও সুরক্ষার আহ্বান

বিশ্ব বসতি দিবসে ভোলায় পরিকল্পিত বসতি গড়ার আহ্বান

বিশ্ব বসতি দিবসে ভোলায় পরিকল্পিত বসতি গড়ার আহ্বান

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী

আরও...