অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১লা ফাল্গুন ১৪৩২


এনসিপির যারা জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ০৩:২৬

remove_red_eye

৫০

দেশের গণমানুষের বহুল কাঙ্খিত ও আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ও গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। ভোটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছয় শীর্ষ নেতা বিজয়ী হয়েছেন। তারা জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন এবং জাতীয় সংসদে দলটির প্রতিনিধিত্ব করবেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এনসিপির ছয় প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ঢাকা-১১ আসনে জয়ী হয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রংপুর-৪ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন। কুমিল্লা-৪ আসন থেকে দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ ছাড়া নোয়াখালী-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ। কুড়িগ্রাম-২ থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন জয়ী হয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা) আসনের বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই আসনে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। অর্থাৎ নাহিদ ইসলাম ২ হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। ভোটের হার ছিল ৪৫ শতাংশ। আসনটির মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৫১৭টি। সেই হিসাবে বৈধ ভোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫৩টি।

রংপুর-৪ (পীরগাছা কাউনিয়া) আসনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট। ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ ভোটারের এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৬৪টি। ভোট পরার শতকরা হার ৬৪ দশমিক ৩৫।

কুমিল্লা-৪ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ আসনে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের জসীম উদ্দিন ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৮৪৫ ভোট।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহবুবের রহমান পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট। আবদুল হান্নান মাসউদ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম থেকে ২৬ হাজার ৭৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

কুড়িগ্রাম-২ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শাপলা কলি প্রার্থী ও এনসিপি নেতা ড. আতিক মুজাহিদ। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, এনসিপির ডা. আতিক মুজাহিদ ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৫ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী। তিনি পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট।