অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ২রা জানুয়ারী ২০২৬ | ১৯শে পৌষ ১৪৩২


বাছাইয়ের প্রথম দিন বিএনপি-জামায়াতসহ যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২রা জানুয়ারী ২০২৬ বিকাল ০৫:৩২

remove_red_eye

১৪

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপি-জামায়াতের নেতাসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

মনোনয়নপত্রে তথ্য-স্বাক্ষরে ত্রুটি, ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত জটিলতা, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ, দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করা, ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি এবং হলফনামায় তথ্যের ঘাটতির মতো বিভিন্ন কারণে এসব মনোনয়ন বাতিল হয়।

তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব ত্রুটি সংশোধন করে আবেদন করলে প্রার্থিতা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে ঘোষিত নির্বাচনী তফশিল অনুযায়ী, বাছাইয়ে বাদ পড়া এসব প্রার্থী আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

বাছাইয়ের প্রথম দিনে যশোরে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত সমস্যায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়। আর ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিলের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

বিএনএফের শামসুল হক ও জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। স্বাক্ষরে গরমিল, টিআইএন ও ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ না থাকায় তা স্থগিত করা হয়।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় বিএনপির মফিকুল হাসান তৃপ্তি এবং ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান জহির ও শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের বিষয়ে তথ্য হালনাগাদের নির্দেশ দিয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

খুলনার দুটি আসনে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের জি এম রোকনুজ্জামানসহ তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয় ভিন্ন এলাকার প্রস্তাবকারী ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে। খুলনা-৩ আসনেও বাতিল হয় তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করা বিএনপির দুই বিদ্রোহী নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিলের কারনে বাতিল হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক মীর সফরত আলী সপু এবং জেলা বিএনপির সদস্য মমিন আলীর মনোনয়নপত্র।

পটুয়াখালী-৩ আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদসহ দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

নাগরিকত্বে অস্পষ্টতার কারণে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল হয়।

রাঙামাটি আসনে আটজনের মধ্যে একজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমার মনোনয়ন স্বাক্ষর ঘাটতির কারণে বাতিল হয়।

ভোলা-২, শরীয়তপুর-১, নীলফামারী-১ ও ২ আসনেও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের তথ্য পাওয়া গেছে।