অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ২রা জানুয়ারী ২০২৬ | ১৯শে পৌষ ১৪৩২


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা নিয়ে কড়াকড়ি ইসির


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২রা জানুয়ারী ২০২৬ বিকাল ০৫:২৯

remove_red_eye

২৮

অসত্য তথ্য দিলে ভোটের পরেও ব্যবস্থা

 

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া তথ্য অসত্য প্রমাণিত হলে মনোনয়নপত্র বাতিলের পাশাপাশি ভোটের পরেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে সব রিটার্নিং কর্মকর্তার জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রার্থীর জন্মতারিখ, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়-ব্যয়ের উৎস, সম্পদ ও দায়, মামলার তথ্যসহ একগুচ্ছ বিষয়ে হলফনামা দাখিল বাধ্যতামূলক। এসব তথ্য মিথ্যা, অসম্পূর্ণ বা গোপন করা হলে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় প্রার্থী বাদ পড়তে পারেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘কাউন্টার এফিডেভিট’ দাখিলের সুযোগও রাখা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রায় আড়াই হাজার মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে অর্ধশত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী দুই হাজারের বেশি এবং বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী। মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 
 

বাছাই, আপিল ও নিষ্পত্তি শেষে আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে। পরদিন রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল, তথ্য বাছাই, তথ্য প্রচার এবং বাছাইকালে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতি বিষয়ে নির্বাচন কমিশন একটি পরিপত্র জারি করেছে। মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়ে নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ-সচিব মনির হোসেন এ পরিপত্র সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠান।

হলফনামার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ইসি নির্ধারিত ১০টি তথ্য প্রার্থীদের হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, যা ভোটারদের মাঝে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

১. প্রার্থীর জন্ম তারিখ ও বর্তমান বয়স।

২. সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (সনদ না থাকলে নম্বরপত্র বা স্বাক্ষরজ্ঞানের তথ্য)।

৩. প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে চলমান কোনো ফৌজদারি মামলার বিবরণ।

৪. অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে তার রেকর্ড ও রায়ের তথ্য।

৫. প্রার্থীর বর্তমান পেশার বিস্তারিত বিবরণ।

৬. প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের পেশার তালিকা।

৭. প্রার্থী ও তার নির্ভরশীলদের দেশে-বিদেশে আয়ের উৎস (আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ)।

৮. প্রার্থী ও তার নির্ভরশীলদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদ ও দায়ের বিবরণী।

৯. অতীতে সংসদ সদস্য হয়ে থাকলে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বিপরীতে অর্জনের বিবরণ।

 

১০. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত একক বা যৌথ ঋণের তথ্য।

কাউন্টার এফিডেভিট ও আইনি সংস্কার:

নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করেছে। কমিশনের ভাষ্যমতে: কোনো ব্যক্তি যদি এই মর্মে অন্য একটি শপথনামা প্রদান করেন যে, প্রার্থীর প্রদত্ত তথ্য যথার্থ নয় এবং তিনি তার সমর্থনে দালিলিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে পারেন, তবে তা কাউন্টার এফিডেভিট হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। এই কাউন্টার এফিডেভিট মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। এছাড়া কোনো তথ্য ভুল থাকলে প্রার্থী নিজেও ‘সম্পূরক এফিডেভিট’ দিতে পারবেন।

তথ্যের প্রচার ও বাছাই প্রক্রিয়া:

হলফনামার মূল কপি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে এবং এক কপি কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। ভোটারদের সচেতন করতে হাট-বাজার ও জনাকীর্ণ স্থানে এসব তথ্য লিফলেট আকারে বিলি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসি।