অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ২০শে আগস্ট ২০২৬ | ৫ই ভাদ্র ১৪৩৩


জলপাইগুড়ির সহজ-সরল মেয়ে থেকে আপসহীন নেত্রী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০শে ডিসেম্বর ২০২৫ বিকাল ০৪:৫৯

remove_red_eye

২৬৬

খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালে, অবিভক্ত ভারতের দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে। বাবা ইসকান্দার আলি মজুমদারের চায়ের ব্যবসা ছিল সেখানে। 

ব্যবসার কথা চিন্তা করেই দেশভাগের সময় সপরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। খালেদা জিয়ার আদি বাড়ি অবশ্য ছিল বাংলাদেশের ফেনী জেলার ফুলগাজীতে। আর নানার বাড়ি ছিল তৎকালীন উত্তর দিনাজপুরে চাঁদবাড়ি এলাকায়।

১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদার বিয়ে হয়। জন্মের সময় তার নাম রাখা হয়েছিল খালেদা খানম পুতুল। বিয়ের পরে অবশ্য স্বামীর নামের প্রথম দুই অক্ষরকেই পদবী হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করেন তিনি। নতুন নাম হয় খালেদা জিয়া। 

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় স্বামী সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের পাশে থাকতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানেও গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশে ফিরে থাকতে শুরু করেন চট্টগ্রামে।

স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ছয় বছর পরে, ১৯৭৭ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট হন খালেদার স্বামী জিয়াউর রহমান। তার পরের বছর দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতে তৈরি করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। 

জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পদাধিকার বলে ‘ফার্স্ট লেডি’ হন তার পত্নী খালেদা। সেই প্রথম আপাত অন্তর্মুখী স্বভাবের পুতুল জনসমক্ষে আসেন। তখনও অবশ্য রাজনীতিতে আগ্রহ ছিল না তার। 

তবে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তাদের গুলিতে খুন হওয়ার পর মত বদলান খালেদা জিয়া। সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮২ সালে স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির সাধারণ সদস্যপদ গ্রহণ করেন। দলের সহ-সভাপতি হন ১৯৮৩ সালে।

গৃহবধূ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসে ৪১ বছর পার করেছেন খালেদা জিয়া। জলপাইগুড়ির সেই সহজ-সরল মেয়েটি হয়ে উঠেন বিশ্বের এক আপহীন নেত্রী। 

দেশের আপামর জনগণ তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। তিনি ৫টি নির্বাচনী আসনে দাঁড়িয়ে সবকটিতেই বিপুল ভোটে জয়ী হতেন। এ নজির দ্বিতীয় করো নেই। ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপাসন নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন এ নেত্রী। 

১৯৮৪ সালের দলের শীর্ষপদে বসেন খালেদা। ১৯৮৬ সালে এরশাদের শাসনামলে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হয়। প্রথমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না-করার সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটে লড়েছিল ভারতে পলাত হাসিনার আওয়ামী লীগ। কিন্তু আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি পুরনো সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। ১৯৯০ সালে গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এরশাদ। 

১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত বহুবার খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। কিন্তু এরশাদ-বিরোধী লড়াই থেকে সরেননি তিনি। সেই লড়াই-ই তাকে রাতারাতি প্রচারের আলোয় নিয়ে এসেছিল। 

১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ভর করে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয় আপসহীন নেত্রীর উপাধি। তারমতো দৃঢ়চেতা নেত্রী দ্বিতীয়জন ছিল না বাংলাদেশে। অন্যায়ের সঙ্গে কখনও আপস করেননি তিনি। আমৃত্যু তিনি ছিলেন আপসহীন।খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু তারমতো দেশপ্রেম আর কেউ দেখাতে পারেননি। দেশ ও জনগনের স্বার্থে তিনি কখনোই্ আপস করেননি। তার মৃত্যুতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সবাই শোকাহত। ভারত-পাকিস্তান এবং জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা ওদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও শোক জানিয়েছেন।   

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হবে।

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় জিয়া উদ্যানে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই সমাহিত করা হচ্ছে তাকে।





রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট আজ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট আজ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটির শপথ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটির শপথ

বরিশালে ৬ জেলার ৩০ তরুণকে নিয়ে ‘স্বাধীনতা বুটক্যাম্প’

বরিশালে ৬ জেলার ৩০ তরুণকে নিয়ে ‘স্বাধীনতা বুটক্যাম্প’

কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ভোলার সন্তান রিয়ার অ্যাডমিরাল মঈনুল হাসান

কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ভোলার সন্তান রিয়ার অ্যাডমিরাল মঈনুল হাসান

ভোলায় পরিবারের কাছে ফিরে পেলেন নিখোঁজ বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু

ভোলায় পরিবারের কাছে ফিরে পেলেন নিখোঁজ বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু

ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালী

ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালী

চরফ্যাসনে মোবাইল কোর্টে অভিযান দুই ফার্মেসির জরিমানা

চরফ্যাসনে মোবাইল কোর্টে অভিযান দুই ফার্মেসির জরিমানা

তজুমদ্দিনে মহিষের বাছুরের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি

তজুমদ্দিনে মহিষের বাছুরের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি

কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

আরও...