অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৪ | ৯ই বৈশাখ ১৪৩১


কানাডায় ছুুুরিকাঘাতে মা-চার শিশুসহ ৬ জন নিহত


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ই মার্চ ২০২৪ বিকাল ০৪:০৭

remove_red_eye

৫৩

কানাডার রাজধানী অটোয়ায় ছুরিকাঘাতে একটি শ্রীলঙ্কান পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারটি শিশু ও তাদের মা রয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারটির পরিচিত আরও একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া শিশুদের বাবাও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) স্থানীয় পুলিশ এসব তথ্য জানায়।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (৬ মার্চ) দিনগত রাতে অটোয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বারহাভেনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা সবাই শ্রীলঙ্কান। এ ঘটনায় শ্রীলঙ্কার ১৯ বছর বয়সী ছাত্র ফেবরিও ডি-জয়সাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ছয়জনকে হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ডি-জয়সা হামলার শিকার ওই পরিবারের সবাইকে চিনতেন ও তাদের সঙ্গে ওই বাড়িতে থাকতেন। তার হামলায় নিহতরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী দর্শনি বনবারানায়েকে গামা ওয়ালওয়ে দর্শনি দিলান্থিকা একান্যাকে ও তার চার সন্তান: সাত বছর বয়সী ইনুকা বিক্রমাসিংহে, চার বছর বয়সী অশ্বিনী বিক্রমাসিংহে, দুই বছরের রিনিয়ানা বিক্রমাসিংহে ও দুই মাস বয়সী কেলি বিক্রমাসিংহে। আর পরিবারটির পরিচিত ও ষষ্ঠ নিহত ব্যক্তির নাম ৪০ বছর বয়সী অমরকুনমুদিয়ানসেলা গে গামিনী অমরকুন।

পুলিশ জানিয়েছে, ফেব্রিও ডি-জয়সা নামে শ্রীলঙ্কার ১৯ বছর বয়সী এক পুরুষ শিক্ষার্থীকে এই ঘটনায় ​​গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার ছয়টি এবং হত্যার চেষ্টার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ডি-জয়সা ওই পরিবারকে চিনতেন এবং তাদের বাড়িতেই বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে অটোয়ার পুলিশ প্রধান এরিক স্টাবস বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করেন ও কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করে। পরে কর্মকর্তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ও গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এরিক স্টাবসের দাবি, এটি নিরপরাধ মানুষের ওপর চালানো কাপুরুষোচিত হামলা। অটোয়ার মেয়র মার্ক সাটক্লিফ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, এটি আমাদের শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক সহিংসতাগুলোর একটি।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এ ছুরি হামলার ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে মন্তব্য করে বলেন, এমন ঘটনায় আমি স্তম্ভিত। কানাডায় সাধারণত এই ধরনের হত্যাকাণ্ড বিরল। তাই স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনা গোটা কানাডায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

কানাডায় গণহত্যার ঘটনা বিরল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এক ব্যক্তি টরন্টো শহরতলীতে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার আগে পাঁচজনকে গুলি করেছিল। এছাড়া ওই বছরের সেপ্টেম্বরে পশ্চিমাঞ্চলীয় সাসকাচুয়ান প্রদেশে এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাত করে ১১ জনকে হত্যা করে। অন্যদিকে অটোয়ায় ২০২৩ সালে ১৪টি ও ২০২২ সালে ১৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

 

সুত্র জাগো