অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে ২০২৬ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


শঙ্কা-আতঙ্কে ক্রেতা সংকটে শেয়ারবাজার


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ই অক্টোবর ২০২৩ সন্ধ্যা ০৬:৩১

remove_red_eye

৩৬৯

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আসার গুঞ্জনের মধ্যেই নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ। এর সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কা রয়েছে আগে থেকেই। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও বাড়ানো হয়েছে নীতি সুদের হার। সব মিলে শঙ্কা আর আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। ফলে শেয়ারবাজারে এক ধরনের ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে।

এতে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (৮ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমেছে। সেই সঙ্গে সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের গতি। এতে ডিএসইতে দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক বিরোধী দলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার খবরে দুই সপ্তাহ ধরে নেতিবাচক ধারায় রয়েছে শেয়ারবাজার। এর মধ্যেই নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের এ আতঙ্কে আরও বারুদ ঢেলেছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ। এ যুদ্ধ নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কিছু অংশ ফিলিস্তিনের পক্ষ নিয়েছে। তবে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর বেশিরভাগ ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামাসের হামলায় ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছুঁয়েছে। আর গাজায় ইসরায়েলিদের পাল্টা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২৫০ ফিলিস্তিনি। ইসরায়েল বড় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে বিপুল সংখ্যক সৈন্য জড়ো করেছে।

টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, সীমান্তের অন্তত ২২টি পয়েন্ট দিয়ে দক্ষিণ ইসরায়েলে ঢুকে পড়ে হামাসের যোদ্ধারা। গাজা সীমান্ত থেকে ১৫ মাইল দূরের শহরেও পৌঁছে যায় তারা। কিছু কিছু জায়গায় কয়েক ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে হামাস সদস্যরা। ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে রাতেও তাদের লড়াই চলছিল।

এসব নতুন সংকটের সঙ্গে আগে থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতার যে শঙ্কা রয়েছে, তাও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুদের হার বাড়ানো যেন শেয়ারবাজারের কোমর অনেকটাই ভেঙে দিয়েছে। সবকিছু মিলে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগাকরীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক-শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরই বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে আলোচনার খোরাক হয়ে ওঠে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের সংঘাত, নতুন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার গুঞ্জনের সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুদের হার বাড়ানো। শেয়ারবাজারের লেনদেনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে লেনদেনের সময় যত গড়িয়েছে, বাজারে দরপতন তত বেশি হয়েছে।

অবশ্য শেয়ারবাজারে কী পরিমাণ ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা মূল্যসূচকের পতনের মাত্রা দিয়ে অনুমান করা কঠিন। কারণ তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম ফ্লোর প্রাইসে (সর্বনিম্ন দাম) আটকে রয়েছে। ফলে এগুলোর দাম নতুন করে কমার সুযোগ নেই। যে কারণে সূচকের খুব বড় পতন হয়নি।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে মাত্র ১৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৪টির এবং ১৪৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম অপরিবর্তিত থাকা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম ফ্লোর প্রাইসে আটকে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমায় ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসই-এক্স ২৪ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ২৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্যসূচকের পতনের সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৬৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৩৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ২১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ২০ আগস্টের পর ডিএসইতে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।

টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সি পার্ল বিচ রিসোর্টের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জেমিনি সি ফুডের ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৪ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ফু-ওয়াং ফুড, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, এইচআর টেক্সটাইল, সোনালী আঁশ এবং প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৫৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১২৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮২টির এবং ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

শেয়ারবাজারে এ পতনের বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার খবরে আগে থেকেই শেয়ারবাজার নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। এরসঙ্গে নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আসার গুঞ্জন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুদের হার বাড়ানোর ঘোষণা শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার ওপর যুক্ত হয়েছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ। সবকিছু মিলেই শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা চরমে। ছোট-বড় সব ধরনের বিনিয়োগকারী আতঙ্কে রয়েছেন। ফলে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী এখন সাইড লাইনে। অর্থাৎ তারা নতুন করে শেয়ার কিনছেন না। ফলে বাজারে এক ধনের ক্রেতা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও শ্যামল ইকুইটি ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাজেদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় দেড় বছর হতে চললো বাজার ফ্লোর প্রাইসে। ফ্লোর প্রাইসের কারণে ছোট ছোট শেয়ারগুলোর দাম বেশি বেড়েছে। বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন না হওয়ার কারণে ছোটগুলোর দাম হয়ে গেছে অনেক বেশি। এগুলোর দাম তো কোনো না কোনো কারণে পড়বেই।

তিনি বলেন, আমাদের ভেতরে এখন অনেকগুলো জিনিস আছে। যেমন রাজনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কা, আবার সংবাদ হয়েছে বাংলাদেশের ওপর নতুন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আসে কি না। আবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপো রেট বাড়ানো হয়েছে। এটার সরাসরি প্রভাব পড়বে শেয়ারবাজারে। হয়তো শেয়ারবাজার থেকে কিছু টাকা ব্যাংকে চলে যাবে। সবকিছু মিলে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ শঙ্কার কারণে সব ধরনের বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে।

তিনি আরও বলেন, বড় বিনিয়োগকারী যদি না আসে, বড় বিনিয়োগকারী যদি সক্রিয় না হয়, তাহলে কখনোই মার্কেট ভাইব্রেন্ট হবে না। মার্কিন নতুন নিষেধাজ্ঞা আসছে কি না এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ছোট-বড়-মাঝারি সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের শঙ্কিত করে তুলেছে। যে কারণে সবাই যার যার জায়গা থেকে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। ফলে বাজারে বিনিয়োগ নেই। লেনদেন কমে যাচ্ছে। এত কম লেনদেনের মধ্যেও যেহেতু বাজার পড়ে যাচ্ছে, তার মানে আজ বাজারে ক্রেতা ছিল না।

সুত্র জাগো

 





তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

তজুমদ্দিনে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন

মনপুরায় ২ হাজার প্রান্তিক জেলের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন

সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী

চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

চরফ্যাশরে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

ভোলায় মেধার ভিত্তিতে ১২০টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ জন

আরও...