অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫ | ২০শে চৈত্র ১৪৩১


পতন ঠেকাতে পারলো না বিমা


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ই আগস্ট ২০২৩ সন্ধ্যা ০৬:১৭

remove_red_eye

২১০

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৩ আগস্ট) লেনদেনের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত শেয়ারের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বিমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো দাপট দেখালেও তা মূল্যসূচকের পতন ঠেকাতে পারেনি। অন্যান্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমায় সবকটি সূচক কমেছে।

তবে বিমা কোম্পানিগুলোর কল্যাণে বড় পতনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে যাওয়া লেনদেন আবার ৪০০ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের গতি কিছুটা বাড়লেও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন খরা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি বাজারটিতে লেনদেন খরা আরও প্রকট হয়েছে। সিএসইর লেনদেন মাত্র চার কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে।

এ দিন লেনদেনের শুরু থেকেই শেয়ারের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে বিমা কোম্পানিগুলো। প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে একাধিক বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম দিনের সর্বোচ্চ পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে লেনদেনের শুরুর দিকে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকে প্রধান সূচক।

তবে বিমা খাতের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি অন্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। লেনদেনের শুরু থেকেই বিমা ছাড়া অন্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমতে দেখা যায়। লেনদেনের শেষদিকে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বিমা খাতের ওপর।

ফলে লেনদেনের শুরুর দিকে দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করা কয়েকটি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম কিছুটা কমে যায়। এমনকি দাম বাড়ার তালিকা থেকে কয়েকটি কোম্পানি দাম কমার তালিকায় চলে আসে। ফলে সবকটি মূল্যসূচক কমে দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে মাত্র ৭৫ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৯টির। আর ১৭১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিমা কোম্পানি রয়েছে ৩৪টি। বিপরীতে ১৩টি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম কমেছে। বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে দামের দিক থেকে শীর্ষে থাকা ৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।

এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে - রেকিট বেনকিজার, ম্যারিকো বাংলাদেশ, ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ।

বেশিরভাগ বিমার সঙ্গে এই পাঁচ বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার পরও দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ২৮৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৩৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ১৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৩৮০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৪৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ার। কোম্পানিটির ২১ কোটি ৮ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের ১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সোনালী পেপার।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- আরডি ফুড, জেমিনি সি ফুড, এমারেল্ড অয়েল, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সোনালী আঁশ এবং কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্স।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন অংশ নেওয়া ১৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৫টির এবং ৮৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি এক লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা।

সুত্র জাগো