অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৯ই জুলাই ২০২৬ | ২৫শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় দুর্গম এলাকা থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ই মে ২০২৩ রাত ১২:৩৪

remove_red_eye

৩৭১



আকাশ মেঘাচ্ছন্ন , চরাঞ্চলে আতঙ্ক উৎকন্ঠা

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক :  দ্বীপ জেলা ভোলায় ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ঘোষণার পর উপকূলীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার (১৩ মে) বিকাল ও সন্ধ্যায় জেলার চর পাতিলা থেকে চর কুকরি মুকরি, ঢাল চর, চর নিজামসহ বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন চর থেকে  আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে চরাঞ্চলে থাকা মানুষদের। তবে বাড়ি ঘর ছেড়ে অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছে না। কেউ কেউ গবাদি পশু নিয়েও আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছে।  পরিস্থিতি মোকাবিলায় খোলা হয়েছে ৮টি কন্ট্রোল রুম। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৭৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ কয়েকশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোখা'র প্রভাবে ভোলায় শনিবার সকাল থেকেই আকাশ মেঘচ্চন্ন অবস্থায় থমথমে আবহাওয়া বিরাজ করে। তবে বিকালে আকাশে আবার ঝলমলে রোদের দেখা মিলে।  সদর উপজেলা এখনো কোন বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাস হয়নি। তবে ভোলার সাগর মোহনার বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে থেমে থেমে বৃষ্টিসহ হালকা বাতাস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে । শনিবার রামে মনপুরায় হালকা বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চরফ্যাশনের ঢালচর, চরনিজাম, মনপুরা, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলায় শুক্রবার রাত থেকেই বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। ঘূর্ণিঝড় মোখা'র প্রভাবে ভোলায় শনিবার সকাল থেকেই আকাশ মেঘচ্চন্ন অবস্থায় থমথমে আবহাওয়া বিরাজ করে। তবে বিকালে আকাশে আবার ঝলমলে রোদের দেখা মিলে।  সদর উপজেলা এখনো কোন বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাস হয়নি। তবে ভোলার সাগর মোহনার বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে থেমে থেমে বৃষ্টিসহ হালকা বাতাস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে । বিশেষ করে চরফ্যাশনের ঢালচর, চরনিজাম, মনপুরা, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলায় শুক্রবার রাত থেকেই বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে।

ভোলার সাগর মোহনার চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন জানান, তাদের সেখানে দুইটি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে শনিবার সকালে সেখানে কিছুটা বৃষ্টিপাত হলেও দুপুরের দিকে আবহাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। বিচ্ছিন্ন চর পাতিলা থেকে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনতে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে সেখানে হালকা বাতাস থাকলেও নদীর পানি স্বাভাবিক রয়েছে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন জানান, তার ইউনিয়নের চরপাতিলা থেকে এক হাজারের বেশি বাসিন্দাকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনার হয়েছে। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজন মাঠে কাজ করছে। তবে সাধারণ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছেনা। এরপরও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাগর মোহনার ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম জানান, তার সেখানে ১০-১২ হাজার লোকের বসবাস। তবে সেখানে কোনো আশ্রয় কেন্দ্র নেই। এতে করে সেখানকার মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে। তারপরও মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে শনিবার দিনভর প্রচারণা চালানো হয়েছে।

অপরদিকে শুক্রবার রাতে ৮নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত দেয়ার পর থেকেই ভোলা-ঢাকা-বরিশাল সহ সকল রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ভোলা-ল²ীপুর-বরিশাল রুটের ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ইলিশা ঘাটে আসা যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। দূর দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা নৌ যান চলাচল বন্ধের খবর না যেনে সকালে অনেকে ঘাটে এসে অপেক্ষা করতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে অনেকে বাড়ি ফিরে গেছে। এদিকে নদী ও সাগর থেকে মাছধরার নৌকা ও ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে আনতে কাজ করছে প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কোস্টগার্ড, রেড ক্রিসেন্ট ও সিপিপি সদস্যরা স্থানীদের সর্তক করতে নদীর তীরে মাইকিং করছে।
এ দিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলার ৭৪৬টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া এক হাজার ৩০৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখার রাখার জন্য অবহিত করা হয়েছে। সাত উপজেলায় খোলা হয়েছে ৮টি কন্ট্রোল রুম। গঠন করা হয়েছে ৯২টি মেডিকেল টিম। দুর্যোগ মোকাবেলায় ১৫ হাজার সিপিপি ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। ভোলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সকল বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ৯৮টি মেডিকেল টিম। এ ছাড়া দুর্গম চরাঞ্চল থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসার জন্য পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রায় ১৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রের লোকজনের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে, ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে নগদ ৮ লাখ টাকা, ৩৫০ মেট্রিকটন চাল এবং ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভোলার ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চরনিজামসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে অন্তত ২ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে। গবাদি পশুর নিরাপত্তার জন্য জেলায় ৩৫টি মুজিব কিল¯œা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক  জানান, ৭৪৬টি কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া লোকজনের জন্য সকাল, দুপুর এবং রাতে খাবারের পাশাপাশি শুকনো খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল, শিক্ষা বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগসমূহের কর্মকর্তাদেরকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবস্থায় রাখা হয়েছে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান জানান, ভোলার ৩৩৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভালো অবস্থায় রয়েছে। তবে মনপুরায় যে সবস্থানে বাধ ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে জিও ব্যাগ দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। তবে নদীর পানি স্বাভাবিক রযেছে।
 ভোলার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৪৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেয়া মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মানুষজন আসতে শুরু করেছে। সেখানে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থার পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলেরা বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ১০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বলে গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ।

 








মনপুরায় টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

মনপুরায় টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ভোলায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন ও কারেন্ট জাল জব্দ

ভোলায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন ও কারেন্ট জাল জব্দ

উত্তাল সাগরে যেতে পারছেনা শতশত ট্রলার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো জেলে

উত্তাল সাগরে যেতে পারছেনা শতশত ট্রলার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো জেলে

মনপুরায় প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মনপুরায় প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ভোলায় শিক্ষা সুরক্ষা প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা ও পর্যালোচনা সভা

ভোলায় শিক্ষা সুরক্ষা প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা ও পর্যালোচনা সভা

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাস চর্চাই জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি : ডেপুটি স্পিকার

ইতিহাস চর্চাই জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি : ডেপুটি স্পিকার

২০৪০ সালে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য সরকারের : জ্বালানি মন্ত্রী

২০৪০ সালে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য সরকারের : জ্বালানি মন্ত্রী

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান পেলেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান পেলেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদলের ৩০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদলের ৩০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার

আরও...