অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৫ই জুলাই ২০২৬ | ২১শে আষাঢ় ১৪৩৩


শব্দদূষণে যেসব কঠিন রোগ বাসা বাঁধছে শরীরে


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬শে এপ্রিল ২০২৩ বিকাল ০৫:২৬

remove_red_eye

৫৪৭

শব্দদূষণ বলতে এমন একটি শব্দকে বোঝায় যা বিরক্তিকর। শব্দদূষণের মূল উৎস হলো যানবাহন, ট্রেন, প্লেন, মিউজিক সিস্টেম, বাজি ফোটানো, মাইকিং ইত্যাদি।

শব্দকে প্রধানত একটি দূষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এটি শ্রবণের স্বাভাবিক প্রবাহ বা স্বাভাবিক শ্রবণশক্তিকে ব্যাহত করে। শব্দদূষণ শুধু বিরক্তির কারণই নয় বরং শারীরিক বিভিন্ন ব্যাধিরও মূল কারণ হতে পারে।

আজ বুধবার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস। শব্দদূষণ, শব্দদূষণের ক্ষতিকারক দিকসমূহ, শব্দদূষণ রোধে করণীয় সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা ও সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য তুলে ধরা এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘প্রোটেক্ট ইয়োর ইয়ার, প্রোটেক্ট ইয়োর হেলথ’। সম্প্রতি ঢাকার শব্দদূষণের মাত্রা নিয়ে গবেষণা করেছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার সব এলাকাতেই শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ তে উল্লেখিত আদর্শমান অতিক্রম করেছে শব্দের মাত্রা। নগরের বিভিন্ন স্থানে সাধারণভাবে শব্দের গ্রহণযোগ্য মানমাত্রার থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ২ গুণ বেশি শব্দ পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, শব্দদূষণের কারণে দীর্ঘস্থায়ী ও কঠিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুসন্ধান অনুসারে, বায়ু দূষণের (কণা পদার্থ) প্রভাবের পরেই শব্দদূষণ স্বাস্থ্য সমস্যার দ্বিতীয় বৃহত্তম পরিবেশগত কারণ।

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ শব্দের কারণে বছরে ৪৮ হাজার ইসকেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ও ১২ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটছে।

যেসব রোগের ঝুঁকি বাড়ায় শব্দদূষণ

শ্রবণ সমস্যা

মানুষের যে পাঁচটি ইন্দ্রিয় আছে তার একটি হলো শ্রবণশক্তি। যে কোনো মানুষের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হলো কান। তবে কান যতটা শব্দ তরঙ্গ গ্রহণ করতে পারে, তার চেয়ে বেশি হলেই যত সমস্যা দেখা দেয়।

দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ শব্দ কানে বাজলে এক সময় শ্রবণ ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ৮৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দকে দূষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় ও এর চেয়ে বেশি শব্দ শ্রবণ ক্ষমতা কমায়।

টিনিটাস

কানের মধ্যে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়ার সমস্যাকে টিনিটাস বলা হয়। এ সমস্যা খুবই বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। অত্যধিক শব্দ কানে বাজার কারণে টিনিটাস হতে পারে। টিনিটাসে আক্রান্ত ৫০-৯০ শতাংশ রোগী শব্দদূষণের কারণে এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

আবার কিছু মানুষের মধ্যে টিনিটাস ঘুমের ব্যাঘাত, জ্ঞানীয় প্রভাব, উদ্বেগ, মানসিক যন্ত্রণা, বিষণ্নতা, যোগাযোগের সমস্যা, হতাশা, বিরক্তি, উত্তেজনা, কাজ করতে অক্ষমতা, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও সামাজিক জীবনে সীমিত অংশগ্রহণের কারণেও হতে পারে।

ঘুমাতে অসুবিধা

প্রচণ্ড শব্দ মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের কারণে ঘুমকে বাঁধা দিতে পারে। আশপাশে আওয়াজ হলে শান্তির ঘুম নষ্ট হতে পারে। ফলে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়।

শব্দদূষণের কারণে ঘুম কমে যায় ও মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যায়। ফলে অস্বস্তি, ক্লান্তি ও মেজাজে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

জ্ঞানীয় কার্যকারিতা কমে যায়

কান মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত, যা শরীরের উদ্দীপনা প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করে। এ কারণে কানে আঘাত করা সব শব্দ তরঙ্গ ব্যাখ্যার জন্য মস্তিষ্কে পাঠানো হয়।

এর মানে হলো অত্যধিক শব্দও মস্তিষ্কে যায় ও বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট অনুসারে, এই ধরনের শব্দ মস্তিষ্ককে নিস্তেজ করে দেয়। ফলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমতে শুরু করে।

নিরিবিলি পরিবেশে বসবাসকারীদের চেয়ে যারা কোলাহলপূর্ণ এলাকায় বাস করেন (যেমন- ব্যস্ত হাইওয়ে, রেললাইন, বিমানবন্দর বা উচ্চ শব্দে নাইট ক্লাবের কাছাকাছি) তাদের জ্ঞানীয় শক্তি কম থাকে।

কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা

অতিরিক্ত শব্দ হৃদযন্ত্রকে ‘উত্তেজিত’ করে তোলে। অত্যধিক শব্দের কারণে হৃৎপিণ্ডও বিরক্ত, দ্রুত স্পন্দিত ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। উচ্চ শব্দে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনও নিঃসৃত হয়। তাই কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে থাকলে রক্তচাপও বেড়ে যায়।

যদি রক্তচাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তবে এটি উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের মতো হৃদরোগ সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার রোগের মধ্যে আছে উচ্চ রক্তচাপ ও আর্টেরিওলোস্ক্লেরোসিস, যা রক্তনালিগুলোর সংকোচনের কারণে ঘটে।

আবেগ ও আচরণগত পরিবর্তন

অত্যধিক শব্দ বিরক্তি বা ক্রোধের কারণ হতে পারে। যারা বেশিক্ষণ তীব্র শব্দের মধ্যে থাকেন তারা ক্রমাগত মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগেন। এটি মানসিক চাপের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে উদ্বেগ বাড়ে ও আচরণগত পরিবর্তন দেখা দেয়।

প্রজনন সমস্যা

অবাক করা হলেও সত্যিই যে, প্রজনন স্বাস্থ্যের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে শব্দদূষণ। এ বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও সমীক্ষা করেছেন গবেষকরা।

আর বেশিরভাগই জানান দিচ্ছে, নারী এমনকি পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে শব্দদূষণ। এমনকি গর্ভবতী নারীরা যদি অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকেন, তাহলে তাদের এমনকি গর্ভের সন্তানের ওজন কমতে থাকে।

তাই উচ্চ শব্দ এড়িয়ে চলতে হবে সবাইকে ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সুত্র জাগো

 





আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: ফখরুল

আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: ফখরুল

যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অন্য কোনো সংগঠনে নেই: জামায়াত আমির

জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অন্য কোনো সংগঠনে নেই: জামায়াত আমির

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ

ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ

সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা

খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল

খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল

বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

একজন মানুষের ইগো যে দেশ-দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা :  সোহেল তাজ

একজন মানুষের ইগো যে দেশ-দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা : সোহেল তাজ

আরও...