অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৩শে অক্টোবর ২০২১ | ৮ই কার্তিক ১৪২৮


আলোর দিশারী আলো দা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১লা অক্টোবর ২০২১ রাত ০৯:৩৯

remove_red_eye

৪৪




বিশেষ প্রতিনিধি :  শুক্রবার ছিল আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। আমাদের দেশে  এ দিবসে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবার সংবাদ পত্রেও  বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে  ৯০ উর্ধ প্রবীণের সংখ্যা হাতে গোনা দু এক জন।  এদের মধ্যে  ভোলা ও ল²ীপুর জেলার আলোকিত মানুষ হিসেবে সর্ব জন শ্রদ্ধেয় আলো বিকাশ রায় ( আলো দা) । বয়স ৯০ । তার পরও বলা যায় বয়স তাঁকে ছুঁতে পারে নি। এখনও লন টেনিসের মাঠে ব্যাট হতে ছোটেন । এক জন নিয়মিত যোগ-ব্যায়ামবিদ । শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি এখনও যুবার মনোবল ধারন করেন। নিয়মিত বই পড়েন।  ছাত্র জীবন থেকে ছিলেন ফুটবল খেলোয়ার । কলেজ জীবন কাটান ভারতে।  দক্ষিণ কোলকাতার প্রথম বিভাগ ফুটবলে খেলতেন। দেশে ফিরে যোগ দেন ওয়াবদা টিমে। বিএসসি প্রকৌশল বিদ্যায় পাশ করা আলো চাকুরি না করে প্রথম শ্রেনির ঠিকাদার হিসেবে দীর্ঘ সময় সুনামের সঙ্গে কাজ করেন ওয়াবদা ( পানি উন্নয়ন বোর্ড), গণপূর্ত বিভাগ , সড়ক ও এলজিইডি দফতরে। বছর দুই হলো ওই পেশা থেকে অবসর নেন। জন্ম ল²ীপুর জেলার রামগতি উপজেলার  পৌর ৯ নং ওয়ার্ডে হলেও  খেলোয়ার জীবন, ব্যবসায়িক জীবনসহ দীর্ঘ সময় কাটান ভোলাতে। ওঠেন ভোলার মানুষ।
মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠকও ছিলেন তিনি। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম দিকে ভোলায় কাজ করেন। কয়েক দফা প্রশিক্ষণও নেন। ওই সময় নিজের মটর সাইকেলে সহযোদ্ধা এডভোকেট নাছির উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে মেঘনা নদীর পাড়ে রাত জেগে পাহারা দেয়ার কাজ করতেন , পাক হানাদের গানবোট ঠেকানোর জন্য। এক পর্যায়ে ভোলা ও ল²ীপুরের ( আলেকজান্ডার) মেঘনার চরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্প গঠন করেন। ওই ক্যাম্পে ভোলার আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাসছুদ্দিন আহম্মেদসহ অনেকের অবস্থান ছিল। ছিল রামগতির মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানও ।  দেশের জন্য কাজ করার পাশাপাশি অকাতরে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এই মানুষটি ( আলো দা) । কখনও নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখেন নি। ল্যান্ডলর্ড পরিবারে জন্ম গ্রহণকারী  মানুষটি ব্যক্তি জীবনে প্রথম শ্রেনির ঠিকাদার হলেও অহমিকা তাকে কখনও স্পর্শ করতে পারে নি। এখনও মানুষের দুঃখ কষ্টে পাশে গিয়ে দাঁড়ান।
একজন জ্ঞানী ও কথ্যক সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। প্রচুর বই পড়েন। পৃথিবীর সেরা মানুষদের বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষনা করেন। বর্তমানে ল²ীপুর জেলা সদরে বসবাস করছেন। ৯০ বছরের এই মানুষটিকে এখনও দেখা যায়  ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার মাঠের তদারকি করতে। ল²ীপুর অফির্সাস ক্লাবের সমন্বয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত জানুয়ারি মাসে ভোলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে  তাঁর ৯০ বছর পর্দাপণ উৎসব নবীন প্রবীণের মিলন মেলায় পরিনিত হয়ে ছিল।  যিনি সকলের কাছে আলো দা হিসেবে পরিচিত। নতুন প্রজন্মের জন্য এই মানুষটি হতে পারে আলোক বর্তিকা । যিনি বিশ্বাস করেন, সততা ও নিয়মিত যোগ-ব্যায়াম ( খেলাধুলা) এক জন মানুষকে নিরোগ দেহে দীর্ঘজীবী করে। প্রবীন দিবসে মানুষটির দীর্ঘায়ু কামনা করে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন  জানান দৈনিক বাংলার কন্ঠ পরিবার ।





আরও...