অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৯শে জানুয়ারী ২০২১ | ৫ই মাঘ ১৪২৭


ভোলার দুর্গম চরাঞ্চলে সবজি চাষে বিপ্লব


হাসনাইন আহমেদ মুন্না

প্রকাশিত: ১২ই জানুয়ারী ২০২১ রাত ১০:৩০

remove_red_eye

৫৭


৯০০ হেক্টর জমিতে  সবজির আবাদ

হাসনাইন আহমেদ মুন্না : জেলার বিভিন্ন দুর্গম চরাঞ্চলে সবজি চাষে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। চরের উর্বর জমিতে শুধু সবুজের সমারহ শোভা পাচ্ছে শসা, ক্যাপসিক্যাম, বটবটি, চিচিঙ্গা, করল্লা, লাউ, তরমুজ, টমোটো, মিষ্টি কুমড়া, শিম । সদর উপজেলার মাঝের চর, রামদাসপুর চর, চর চটকিমারা, চর হোসেন। দৌলতখানের মদনপুর চর, মাঝের চর। বোরহানউদ্দিনের চর লতিফ, গঙ্গাপুর চর। লালমোহনের শাহাবাজপুর। তজুমোদ্দিনের চর পিয়াল, চর জহিরুদ্দিন। মনপুরার চর কলাতুলি, বদনার চর। চরফ্যাসনের কিছু চরসহ বিভিন্ন চরে ধানের পাশাপাশি সবজি চাষ চলছে কয়েক বছর ধরে।এসব চরে এবছর প্রায় ৯শ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। এখানকার সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে নৌ পথে চলে যায় ঢাকা-চিটাগংসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এছাড়া মাঝের চরের উৎপাদিত সবজি ব্রীটেন, ফ্রান্স ও ইতালীতে রপ্তানীর পক্রিয়া চলছে। যাচরাঞ্চলের কৃষি খাতকে আরো সমৃদ্ধ করবে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বছরের অন্য সময়টাতে এ চরে ধান চাষ করা হলেও এ মৌসুমে ব্যাপক সবজির চাষ হয়। জোয়ারে মাটিতে প্রচুর পলি জমার ফলে উর্বর শক্তি অনেক বেড়ে যায়। এ মৌসুমের ৪ থেকে ৫ মাস সবজির বিপ্লব সাধিত হয়ে পুরো চরে। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে এসব চরে বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিক্যাম চাষ অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। সেক্ষেত্রে আবহাওয়া সহায় থাকা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার বলে জানান তারা।
ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রিয়াজউদ্দিন বলেন, চরের জমি বেলে ও দোঁয়াশ মাটি যুক্ত হওয়ায় অত্যন্ত উপযোগী সবজি চাষের জন্য। সবজির গুণগত মানও অনেক ভালো। তাই সা¤প্রতিক সময়ে সদর ও দৌলতখান উপজেলার মধ্যে থাকা মাঝের চর থেকে চিচিঙ্গা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ ব্রীটেন, ফ্রান্স ও ইতালীতে পাঠানোর পক্রিয়া চলছে। একাসাথে চরের ক্যাপসিক্যামের বেশ সুনাম রয়েছে সারা দেশে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এসব চরাঞ্চলকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী উদ্বিদ সংরক্ষণ অফিসার মো: হুমায়ুন কবির জানান, এসব চরে গত বছর ১৫ হাজার ১৫০ মে:টন সবজি উৎপাদন হয়েছিলো। যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৩০ কোটি টাকা। এছাড়া জেলায় এবছর মোট প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চরাঞ্চলের কৃষকদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সুসম  মাত্রায় সার প্রয়োগ, সারিবদ্ধ বীজ ও চারা রোপণসহ সব ধরনের পরামর্শ সেবা অব্যাহত রয়েছে। সবজি চাষি মো: ফিরোজ এবছর এক একর জমিতে চিচিঙ্গার চাষ করেছেন। কার্তিক মাসে বীজ রোপণ করেন জমিতে। অগ্রাহয়ণ থেকে ফলন আসতে শুরু করে। পৌষ মাস থেকে সবজি বিক্রি শুরু করেন। এ পর্যন্ত ৩ বার সবজি বিক্রি করেছেন দেড় লাখ টাকার। তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। সামনের দিকে আরো ৫ লাখ টাকার বিক্রি হবে। তিনি মূলত ঢাকার কাওরান বাজার ও যাত্রাবাড়ীতে সবজি বিক্রি করে থাকেন।
মাঝের চরের ক্যাপসিক্যাম চাষি মো: হান্নান বলেন, এ বছর ৩ লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ২ একর জমিতে ক্যাপসিক্যাম চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়েছে। মাঠে আরো ৫ লাখ টাকা মূল্যের ক্যাপসিক্যাম রয়েছে বলে জানান তিনি। একই এলাকার অপর চাষি মো: হাসেম আলী জানান, মূলধন বেশি থাকলে ক্যাপসিক্যাম চাষে লাভ বেশি হয়। অনেকেই  ক্যাপসিক্যাম আবাদ করে লাভের মুখ দেখেছেন। তিনি ৩ একর জমিতে চাষ করেছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে  তিনি লাভবান হবেন বলে জানান। চর মদনপুরের কৃষক রহমত মিয়া ও আজগর বলেন, তারা মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করছেন। ফলন এসেছে ভালো। লাউসহ এর পাতা ও ডগা বিক্রি করে তারা মূলধনসহ লাভের আশা করছেন।