অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২৩শে আগস্ট ২০২৬ | ৭ই ভাদ্র ১৪৩৩


মনপুরায় সাংবাদিক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩শে আগস্ট ২০২৬ রাত ১২:৫৩

remove_red_eye

১৩

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : ভোলার মনপুরায় অনিবন্ধিত ‘চ্যানেল ভোলা’ নামের একটি ফেসবুক পেজের সাংবাদিক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন মাকসুদ আলম নামে এক ব্যবসায়ী। তার দাবি, একটি কথিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো এবং পুনরায় টাকা দাবি করার অভিযোগও করেছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোলা সদরের খলিফাপট্টি এলাকার একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মাকসুদ আলম। তিনি মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং একটি ইটভাটার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বলে জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মাকসুদ আলম অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাংবাদিক মেহেদী হাসান আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাতে থাকেন। পরে কৌশলে তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তার ইটভাটা থেকে নগদ টাকায় ১৫০০ ইট কিনে নেন মেহেদী। পরে গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখেও আরও ১৫০০ ইট নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাকসুদ আলমের দাবি, পূর্বের ও নতুন কেনা ইটের টাকা পরিশোধ এবং আরও ১০ হাজার ইটের অর্ডার নিশ্চিত করার কথা বলে আমাকে মনপুরার হাজিরহাট থেকে মোটরসাইকেলে করে দীঘিরপাড় এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নাস্তা খেতে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর এক নারীসহ ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই বাসায় প্রবেশ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এরপর আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ওই নারীর সঙ্গে জড়িয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি কথিত ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করা হয়। প্রাণভয়ে তার কাছে থাকা ইট ব্যবসায়ের প্রায় ২ লাখ টাকা তিনি দিয়ে দেন বলে দাবি করেন। এরপর আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ওই টাকা এনে দিতে বাধ্য হন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাকসুদ আলম বলেন, মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাকে পূর্বের স্থানে রেখে যাওয়া হয়। সামাজিক মর্যাদা ও জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারেননি। পরে কথিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের হুমকি দিয়ে আবারও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাকসুদ আলম আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি মনপুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার অভিযোগ গ্রহণ করেননি বলে তার দাবি। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করেন।
তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সাংবাদিক মেহেদী হাসান ও ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, তার কাছ থেকে নেওয়া ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে কথিত ভিডিও ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে মাকসুদ আলমের এসব অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিক মেহেদী হাসানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।