অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ২রা অক্টোবর ২০২০ | ১৬ই আশ্বিন ১৪২৭


চরফ্যাশনে টাঙ্গা জালে ৫ মিশালি মাছ শিকার


এ আর সোহেব চৌধুরী

প্রকাশিত: ১১ই জুলাই ২০২০ রাত ১০:২৯

remove_red_eye

১২১



এআর সোহেব চৌধুরী,চরফ্যাশন : চলমান বর্ষা মৌসুমে খাল বিল ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে টাঙ্গা জাল বা ভেসাল জালে মাছ শিকার। খাল বিল নদী নালাসহ বিভিন্ন জলাশয়ের দেশিয় প্রজাতির মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছে স্থানীয়রা। মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবিরা অলস সময় পাড় করছিল দির্ঘদিন। আর তাই এ বর্ষা মৌসুমটা কাটাচ্ছে জলাশয় ও নদী খালে মাছ শিকারে।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের প্রতিক টাঙ্গা বা ভেসাল জালে চরফ্যাশন উপজেলার চরাঞ্চলগুলোয় নানান রকমের পাঁচ মিশালি মাছ শিকার করা চোখে পড়ার মতো। দিন রাত ধরে এ মাছ শিকার করে স্থানিয় হাটবাজারে চড়া দামে বিক্রি করছে জেলেরা। আর এ মৌসুমে মাছ শিকার করেই দিনাতিপাত করছে শত শত জেলে পরিবার।

আসলামপুর,বেতুয়া,চর-মাদ্রাজ,হাজারিগঞ্জ,ওসমানগঞ্জ,আমিনাবাদ,আহাম্মদপুর,চর-মঙ্গল,কুকরি,ঢালচর,পতিলাসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের খাল বিল ও পুকুর চলমান বর্ষার পানিতে ডুবে যাওয়ায় কোচ,টেটা,বড়শি ও টাঙ্গা জাল বা ভেসাল জাল এবং ঠেলা জালে মাছ শিকার করছে এসব জেলে ও কর্মহীন পরিবার।

চর-মাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজ ¯øুইজঘাট এলাকার বাসিন্দা আবু কালাম মাঝি (৫৫) বলেন, বাড়ি সংলগ্ন নদীর শাখা খালে প্রতিদিন জোয়ার ভাটায় দুই চার ক্ষেপ মাছ ধরলেই পোয়া,ছুররা,টেংরা,পুটি,ঘুইংগা,বাইলা,চিংড়ি,পাংগাশ,বোয়লসহ বিভিন্ন রকমের পাঁচ মিশালি মাছ পাই। যা বিক্রি করে প্রতিদিন ২ থেকে ৩হাজার টাকা কামাই করি।

আমিনাবাদ ইউনিয়নের জুবায়ের আহমেদ ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জানান, বাবা রিকশা চালক তিনি সারাদিন ভাড়া টেনে রাতের বেলা  টাঙ্গা জালে মাছ শিকার করেন। করোনা পরিস্থিতে আমার স্কুল বন্ধ থাকায় আমি জাল ফেলে ও বড়শি দিয়ে শৌল,টাকি,কৈ,পুটিসহ বিভিন্ন জলাশয়ের তেলাপিয়া মাছ শিকার করে বাবাকে সহযোগীতা করছি।

পৌর ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা চামিলি রানি বলেন, দাসকান্দি এলাকার সিএমপির খালে র্দীঘ ১৫ বছর যাবত বরশি দিয়ে মাছ শিকার করছি। সময়ের পরিক্রমায় খালটি ময়লা আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় কয়েক বছর যাবত মাছ ধরিনা। তবে বর্ষায় নতুন পানিতে খাল ভরে যাওয়ায় খালে ও বিলে মাছ ধরছি। তবে কৃষিতে কিটনাষক ব্যবহারের ফলে দেশিয় প্রজাতির যেমন-কাইক্কা,বুৎকুলি,বাইং,শিং,ঘুইংগা,পুটি,খৈলাপুটি,স্বরপুটি ও কৈ মাছ আগের মতো এখন আর পাওয়া যায়না।
উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন পরিবার এ মাছ শিকার করে জীবিকার্জন করছে এটা ভালো দিক তবে খালবিল ও জলাশয়ে মাছের চলালে প্রতিবন্ধকতায় খাল বিলে বাধঁ সৃষ্টি করা যাবেনা এবং ভোসাল জাল ও যে কোন ফাঁদ ব্যবহার করে মাছ শিকার করা মৎস আইন অনুযায়ি দÐনীয়।