অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২রা মে ২০২৬ | ১৮ই বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলার গ্যাস সিলিন্ডারে ঢাকায় সরবরাহ বন্ধের দাবিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০শে আগস্ট ২০২৪ রাত ০৯:৪৪

remove_red_eye

২৩২

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার গ্যাস সিলিন্ডারে করে ঢাকায় নেয়া বন্ধ করতে এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলণ। মঙ্গলবার দুপুরে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ইন্টাকো রিফুয়েলিং কোম্পানীর ভোলা অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন কালে তারা এই আল্টিমেটাম দেন। ভোলাবাসীর গ্যাসের চাহিদা পূরণ না করে ও গ্যাস ভিত্তিক শিল্প কারখানার মাধ্যমে কর্মসৃস্টি ছাড়া অন্য এলাকার জন্য গ্যাস বিতরণকে বৈষম্য বলে মনে করছেন আন্দোলণকারীরা।

ঢাকার শিল্প কারখানার গ্যাস সংকট দূর করতে ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ভোলার গ্যাস সিএনজি হিসাবে সিলিন্ডারে ভরে  সরবরাহ করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্টাকো রিফুয়েলিং কোম্পানী। তাদেরকে দিনে ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সিএনজি আকারে সরবরাহের অনুমোদন দেয় জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এতে কোম্পানীর জন্য প্রতিঘনফুট ১৭ টাকা ও সিএনজির জন্য প্রতিঘনফুট ৩৫ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভোলার কয়েক হাজার গ্রাহক গ্যাসেরে দাবি জানিয়ে আসছে। অনেকে ডিমান্ড নোট ( টাকা) জমা দিয়েও সংযোগ পান নি। বিভিন্ন সময় এ নিয়ে আন্দোলণ সংগ্রাম করেও সরকারের টনক নড়াতে পারেনি। এছাড়া স্থানীয় বেকারদের কর্মস্থানের জন্য জেলায় গ্যাস ভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপনেরও জোড়ালো দাবি ছিল বিভিন্ন মহলের। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এসব দাবির প্রতি সমর্থন না দিয়ে উল্টো সিলিন্ডারে করে ঢাকার শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়। যা ভোলাবাসী তাদের স্বার্থ বিরোধী বলে মনে করছেন।
এদিক আওয়ামী লীগ সরকারের বৈষম্যমুলক এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার বেপারীর দোকান এলাকার ইন্টাকো রিফুয়েলিং কোম্পানীর অফিসের সামনে অবস্থান নেন রাহিম ইসলাম, কামরুন নাহার এ্যানি, জিদান আনবীর, জুবায়ের চৌধুরী, তাহিয়াদ ইসলাম, জুবায়ের মাহির, ফারদিন ফেরদৌস, আর এস হিমু সহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলণের নেতৃবৃন্দ। এসময় তাদের ভোলার গ্যাস অন্যত্র সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবিতে শ্লোগান দিতে শোনা যায়। পরে ইন্টাকোর স্থানীয় কর্মকর্তা, সদর থানার ওসি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলণের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে আন্দোলণকারীদের পক্ষ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের জন্য কোম্পনীকে এক সপ্তাহের সময় সীমা বেঁধে দেয়া হয়। আন্দোলণকারীদের দাবি ভোলার গ্যাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোলাবাসী পাবে। বৈষম্যের মাধ্যমে ভোলাবাসীকে গ্যাস থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। পিছিয়ে পড়েছে উন্নয়ন থেকে। তাই শিল্প কারখানা স্থাপন ও ভোলাবাসীর চাহিদা পূরণের পর গ্যাস অন্যত্র সরবরাহ করতে হবে। গ্যাস সরবরাহ করতে হবে সরকারের তত্ত¡াবধায়নে। কোন বেসরকারি কোম্পানীকে এ দায়িত্ব দেয়া যাবে না। আলোচনায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের সাথে ইন্টাকো কোম্পানীর ভোলা অফিস ইনচার্জ মো. ফয়সাল ও সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে মো. ফয়সাল জানান, আন্দোলণকারীরা গ্যাস সরবরাহ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। আমরা কিছু দিনের জন্য সময় চেয়েছি। আশা করি তারা কিছু সময় দিবেন। উন্নয়নের জন্য স্থানীয়দের গ্যাস সরবরাহের দাবি যৌক্তির বলে মনের করেন ফয়সাল। ওসি মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, আন্দোলণকারীদের নিয়ে কৃর্তপক্ষের সালে আলোচনা করে ৭দিনের সময় দিয়েছেন। এর মধ্যেই বিষয়টির সমাধান চেয়েছেন আন্দোলণকারীরা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ সাত দিন উৎপাদন ও সরবরাহ চলবে।