অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২রা মে ২০২৬ | ১৮ই বৈশাখ ১৪৩৩


কোটা আন্দোলনে চরফ্যাশনের যুবক নিহত


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ই জুলাই ২০২৪ সন্ধ্যা ০৭:৩১

remove_red_eye

১৯৭

 

    ঢাকাতে নিহত সিয়ামের পরিবারে শোকের মাতম চরফ্যাসনে গ্রামের বাড়ীতে দাফন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : কোটা বিরোধী আন্দোলনে বুধবার রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী হানিফ ফ্লাইওভারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সিয়াম (১৫) নামের এক কিশোরকে তার গ্রামের বাড়ি চরফ্যাসনে দাফন করা হয়েছে। নিহত সিয়ামের মরদেহ বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার দিকে তার গ্রামের বাড়ীতে এনে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এদিকে সিয়ামের মৃত্যুতে তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। বড় ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা। নিহত সিয়াম ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের হাসানগঞ্জ গ্রামের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কৃষক জিয়ারুল পাটওয়ারীর বড় ছেলে এবং ওসমানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র।
সিয়ামের মা আঞ্জু বেগম জানান, সিয়ামের বাবা অন্যের জমি বর্গা চাষাবাদ করে কোন রকম জীবন পার করছে। ছেলে সিয়াম ৮ম শ্রেনীর ছাত্র। সংসারে অভাব অনটন দেখে সিয়াম গত রোজার ঈদের পরে কাজের জন্য ঢাকাতে যান। ঢাকার গুলিস্তানে সিয়াম ফুটপাতের একটি ব্যাটারির দোকানে কর্মরত ছিলো। সিয়াম ঈদুল ফিতরের ছুটিতে গ্রামে এসে ২৯ জুন আবার ঢাকাতে চলে যায়। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিয়াম দোকান বন্ধ করার পর আমার সাথে তার কথা হয়েছিল। যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে একটি ভাড়া বাড়ীতে সে বসবাস করে। বাসায় ফেরার পথে যাত্রবাড়ী হানিফ ফ্লাইওভারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে সিয়াম গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় সিয়াম গুলিবিদ্ধ হলে সিয়ামের সাথে থাকা সাকিব নামের আরেকজন সিয়ামের খালাতো ভাই রাসেলকে খবর দিলে রাসেল ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মিডেকেলে নিয়ে আসলে তার মৃত্যু হয়।
সিয়ামের খালাতো ভাই রাসেল স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, সিয়াম গুলিস্তানের একটি ব্যাটারির দোকানে কর্মরত ছিল। রাতে বাসায় ফেরার পথে হানিফ ফ্লাইওভারে সংঘর্ষ চলাকালে সিয়াম গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে সেখাইনে তার মৃত্যু হয়। রাতেই ঢাকা থেকে সিয়ামের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে এসে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে জানাযার নামাজ শেষে দাফন করা হয়।
ওসমানগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কাশেম মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, সিয়াম একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার বাবা পেশায় একজন কৃষক। সিয়াম কাজের জন্য ঢাকাতে যান। হঠাৎ তার মৃত্যুর খবর শুনে তার বাড়ীতে যাই। এবং তার মরদেহ গ্রামে আনার পর জানাযা শেষে ফরাজীর হাট বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ওসমানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে যেকোন সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
চরফ্যাসন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাখাওয়াত হোসেন জানান, ঢাকাতে নিহত সিয়ামের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ীতে আনার পর থানা থেকে পুলিশ তার বাড়ীতে যান। কোন অভিযোগ না থাকায় তার মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে।