অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ২৮শে নভেম্বর ২০২২ | ১৪ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯


‘যাদের চোখ আছে তারা বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দেখতে পারবেন’


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০শে নভেম্বর ২০২২ রাত ১০:২২

remove_red_eye

২৫

শিল্পায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই ১৪ বছর সরকারে থেকে বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। আজকে অন্তত যাদের চোখ আছে তারা দেখতে পারবেন।

রোববার (২০ নভেম্বর) দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৫০টি শিল্প ও অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে তিনি এ সব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এসময় ৪টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫৩টি ফলক উন্মোচন করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর, এটা সারাবিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এসময় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে তার সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সে বিষয়েও তুলে ধরেন তিনি।

যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শুধু চাকরির পেছনে না ঘুরিয়ে নিজেরাই নিজেদের শিল্প ব্যবসা গড়ে তোলেন। নিজেরা অন্য লোকের চাকরি দেওয়ার সুযোগ করে দেন, নিজের মাস্টার নিজেই হোন।’

অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে এরইমধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে ইতোমধ্যে ২৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বানিজ্যিক উৎপাদন করছে এবং ৬১টি শিল্প নির্মাণাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়া সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প নির্মাণে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। কাজেই পরিকল্পিত শিল্পায়নে যেসকল প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে তাদের আমি আপনাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।’

একই সঙ্গে জাপান, চীন ভারত তাদেরকে আমরা দিয়েছি। আমাদের কাছে সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর থেকে অন্যান্য দেশও এগিয়ে এসেছেন আমরা তাদেরকেও জায়গার ব্যবস্থা করে দেব। যাতে করে তারা এখানে বিনিয়োগ করতে পারেন। এখন থেকে যে দেশ আসবে আমরা তাদের জন্য আলাদা জায়গা দেব বলেন প্রধানমন্ত্রী।

যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে অল্প সময়ের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি তার সরকারের মেয়াদে যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যেন আরও অল্প সময়ে রেলওয়েতে পৌঁছানো যায় তাই নতুন একটা রেললাইনের এলাইয়েনমেন্টের চিন্তা করছি, সেটা আমরা করব। তবে করোনা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে অর্থনৈতিক যে চাপটা আমাদের ওপর আছে এটি কমে গেলেই আমরা এই কাজগুলো করতে পারব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এটাই চাই, বাংলাদেশ আজকে যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাক। আমরা এই ১৪ বছর সরকারে থেকে যেটা ঘোষণা দিয়েছিলাম রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা দিয়েছিলাম এবং বাংলাদেশ যে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ; আজকে কিন্তু অন্তত যাদের চোখ আছে তারা দেখতে পারবেন, হ্যাঁ সত্যিই...। শুধু তাই না আওয়ামী লীগ যে ব্যবসাবান্ধব আওয়ামী লীগ যে দেশের উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দেয়, আওয়ামী লীগ এদেশের শিল্পায়নকে গুরুত্ব দেয়, সঙ্গে সঙ্গে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে, আমরা রিসার্চ করে করে ফসল উৎপাদন দ্বিগুণ তিনগুণ করার উদ্যোগ নিয়েছি এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ভূখণ্ড জাতির পিতা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। এই অঞ্চলের মানুষ সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে। বিজয়ী জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলব। কারো কাছে হাত পেতে চলব না। নিজের পায়ে দাঁড়াব। আর শিল্পায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসব।’

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুনের স্বাগত বক্তব্য রাখেন। আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান।

সুত্র সারাবাংলা