অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৮শে ভাদ্র ১৪৩৩


তীব্র হচ্ছে ‘ককরোচ’ আন্দোলন, মোদির সামনে কী কী পথ খোলা?


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২শে জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:২০

remove_red_eye

২২৮

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা খাতের দুর্নীতি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং সরকারি উদাসীনতার বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। দেশটির হাজার হাজার তরুণ বা ‘জেন-জি’ প্রজন্ম দিল্লির রাজপথে নেমে এসেছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ভারতের বিরোধী দলীয় নেতারাও।   এমনকি নজিরবিহীন ছাত্র আন্দালনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, যুক্তরাজ্যের লন্ডনসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসী ভারতীয়রা, যা মোদি সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।  

ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনকে বিজেপি সরকার কোনো নির্দিষ্ট জাতিগত বা ধর্মীয় ট্যাগ— যেমন কৃষক আন্দোলনকে ‘খালিস্তানি’ বা সিএএ আন্দোলনকে ‘মুসলিম বিক্ষোভ’ দিয়ে বিতর্কিত করতে পেরেছিল। কিন্তু এবারের আন্দোলনটি গড়ে উঠেছে শিক্ষা, মেধা এবং বেকারত্বকে কেন্দ্র করে—যা ধর্ম, বর্ণ ও অঞ্চল নির্বিশেষে ভারতের সাধারণ মধ্যবিত্ত ও তরুণ সমাজকে স্পর্শ করেছে। ফলে আন্দোলনকারীদের কোনো নেতিবাচক ছাঁচে ফেলা সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। 

বিশ্লেষক মতে, বর্তমান

পরিস্থিতিতে এই রাজনৈতিক সংকট কাটাতে এবং তরুণ অসন্তোষ প্রশমিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে মূলত চারটি পথ খোলা রয়েছে—

১. রাজনৈতিক সমাধান ও শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ 

 

আন্দোলনকারীদের প্রধান ও অন্যতম অনড় দাবি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ফলে সংকট নিরসনে সবচেয়ে কার্যকর পথ হচ্ছে মোদি সরকার নৈতিক দায় স্বীকার করা এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানেরকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া। এর ফলে আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ অনেকটাই শান্ত হতে পারে। এটি সরকারের গণতান্ত্রিক উদারতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীলতা প্রমাণ করবে, যা ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজকে আশ্বস্ত করবে।

অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতারা এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংসদ এবং রাজপথ—উভয় জায়গাতেই সরকারকে তীব্র কোণঠাসা করে ফেলেছেন। বিরোধী দলগুলোর প্রধান দাবিই হলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

এক্ষেত্রে মোদি যদি নিজেই শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দেন, তবে বিরোধীদের আন্দোলনের প্রধান এজেন্ডাটি হাতছাড়া হয়ে যাবে। এর ফলে আন্দোলনের রাজনৈতিক হাওয়া অনেকটাই কমে আসবে।

একই সঙ্গে মোদি দেশবাসীকে এই বার্তা দিতে পারবেন যে, যুবসমাজের ভবিষ্যতের প্রশ্নে তিনি নিজের ক্যাবিনেটের প্রভাবশালী মন্ত্রীকেও ছাড় দিতে রাজি নন।

যদিও এই পথে মোদির জন্য একটিই বড় ঝুঁকি রয়েছে—তা হলো ‘চাপের মুখে নতি স্বীকারের তকমা’। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নরেন্দ্র মোদিকে সাধারণত আন্দোলনের মুখে সহজে পিছু হটতে দেখা যায়নি। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিলে বিরোধীরা এটিকে তাদের ‘বড় রাজনৈতিক বিজয়’ হিসেবে উদযাপন করবে, যা মোদির শক্তিমত্তার ভাবমূর্তিকে কিছুটা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

২. আলোচনা ও সমঝোতার নীতি 

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ হলো এই রাজনৈতিক সংকট থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে যৌক্তিক এবং গণতান্ত্রিক পথ। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হলো ভারতের তরুণ ও শিক্ষার্থী সমাজ। কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের চেয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

তবে বিশ্লেষকরা মতে, সরাসরি সংলাপ সফল করার প্রথম শর্ত হলো এমন ব্যক্তিদের আলোচনার টেবিলে আনা যাদের প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা রয়েছে। এক্ষেত্রে মোদি নিজে সরাসরি প্রথম বৈঠকে না বসে দলের প্রবীণ ও বিতর্কহীন নেতা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতাকারী কমিটি গঠন করতে পারেন। এটি আন্দোলনকারীদের এই বার্তা দেবে যে সরকার তাদের দাবিগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

বিজেপি সরকার ইতিমধ্যে এই পথটিতে কিছুটা হাঁটা শুরু করেছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করেছেন।

তবে নামমাত্র আলোচনার পরিবর্তে সরকার আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো— প্রশ্নফাঁসের স্থায়ী সমাধান, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ এবং অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি মেনে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি করতে পারে। এতে রাজপথের সংঘাত এড়ানো যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। 

৩. কঠোর দমন নীতি ও আইনি ব্যবস্থা 

কঠোর দমন নীতি ও আইনি ব্যবস্থা হলো যেকোনো গণআন্দোলন মোকাবিলায় রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রথাগত কিন্তু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি পথ। মোদি সরকারও চাইলে চলমান আন্দোলনকে ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র’ বা বিরোধী দলের উসকানি হিসেবে ব্র্যান্ডিং করে দমন করার চেষ্টা করতে পারে। তবে এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। 

সরকার ইতিমধ্যে এই পথটির প্রাথমিক প্রয়োগ শুরু করেছে। বিক্ষোভে শিক্ষাথীদের ওপর লাঠিচার্জ, ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদেরও আটক করা হয়েছিল। সরকার এই কঠোর অবস্থান ধরে রেখে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা জারি রাখতে পারে।

তবে ভারতের এই আন্দোলনটি এখন আর শুধু শহরে সীমাবদ্ধ নেই, এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করলে সরকারের প্রতি যুবসমাজের স্থায়ী ক্ষোভ তৈরি হবে, যা আগামী নির্বাচনগুলোতে মোদির দলের জন্য ‘বিপদঘণ্টা’ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ককরোচ আন্দোলনের নেতারা পুলিশি সহিংসতার পর আপাতত দিল্লির রাস্তায় বড় বড় মিছিল বা পদযাত্রা স্থগিতের ঘোষণা দিলেও, তারা অবস্থান ধর্মঘট ও অন্যান্য উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড়। তাই শুধুমাত্র পুলিশি পাহারায় বা নীরব থেকে এই ক্ষোভ ধামাচাপা দেওয়া মোদি সরকারের জন্য কঠিন হবে; বরং একটি অর্থবহ আলোচনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই এই মুহূর্তে মোদির জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

৪. দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ঘোষণা

দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ঘোষণা হলো এমন একটি কৌশলগত পথ, যার মাধ্যমে মোদি সরকার তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থার প্রতি তরুণ প্রজন্মের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মূল ভিত্তি যেহেতু প্রশ্নফাঁস এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, তাই কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া এই ক্ষোভ স্থায়ীভাবে দূর করা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতিমধ্যে এনডিএ জোটের বৈঠকে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো আন্দোলন থামাবে না, তবে মধ্যপন্থী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করতে সাহায্য করবে।





শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

লালমোহনে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সাইক্লোন শেল্টারের উদ্বোধন

লালমোহনে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সাইক্লোন শেল্টারের উদ্বোধন

বাংলাদেশকে মানবিক রাষ্ট্র গড়ার কাজ করছে সরকার: এমপি নয়ন

বাংলাদেশকে মানবিক রাষ্ট্র গড়ার কাজ করছে সরকার: এমপি নয়ন

মনপুরায় জানাযা ও মৃত্যুর পর খাওয়ানো টাকা জমিয়ে মারা গেলেন ভারসাম্যহীন এক ভিক্ষুক

মনপুরায় জানাযা ও মৃত্যুর পর খাওয়ানো টাকা জমিয়ে মারা গেলেন ভারসাম্যহীন এক ভিক্ষুক

লালমোহনে ৪৪৫তম স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত

লালমোহনে ৪৪৫তম স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি : প্রধানমন্ত্রী

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি : প্রধানমন্ত্রী

নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে: রুহুল কবির রিজভী

নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে: রুহুল কবির রিজভী

কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে যাবে বাংলাদেশ: তিতুমীর

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে যাবে বাংলাদেশ: তিতুমীর

দলের সব নেতাকর্মীই সরকারের অংশ: রিজভী

দলের সব নেতাকর্মীই সরকারের অংশ: রিজভী

আরও...