অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই জুন ২০২৪ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১


ভোলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত অসংখ্য কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮শে মে ২০২৪ দুপুর ০২:১৯

remove_red_eye

২৯

রাতভর আতংক উৎকণ্ঠা  ঢাল চর ও চরপাতিলায় ২০ হাজার লোক পানিবন্দী
 
 
 
 
বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : ঘুর্নিঝড় রেমাল এর প্রভাবে  রবিবার সকাল থেকে উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনার দুর্গম ঢাল চর ও চর কুকরি মুকরি ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল  অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।  জোয়ারের অন্তত ৫ ফুট পানিতে  প্রায় ২০ হাজার লোক পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। অসংখ্য কাঁচাঘর বাড়ি বিধ্বস হয়েছে। মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিপ্রেভাহিত হচ্ছে। এতে করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাধ হুমকির মুখে পড়েছে। রাত ১২ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় ভোলায় থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি ও বাতাস বইছে। এসময় ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো। রাতে চরাঞ্চল এলাকার মানুষ ঘুর্নিঝড় আতংকে মধ্যে থাকে।
 ঢাল চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম জানান, তার ইউনিয়নের কোন আশ্রয় কেন্দ্র নেই। সেখানে জোয়ারে পানিতে প্রায় ১২ হাজার লোক পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। নদী উত্তাল হওয়ায় সেখান থেকে মূল ভূখন্ডে মানুষকে সরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কিছু লোক পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে। রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তার এলাকার বহু কাচা ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান,  চরে অতি জোয়ারের পানিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে। 
পর্যটন এলাকা কুকরি মুকরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম জানান, তাঁর এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে চর পাতিলাসহ বিভিন্ন এলাক প্রায় ৭ হাজার লোক পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। অনেক আশ্রয় কেন্দ্রে আসছে। উচু স্থানে গবাদি পশু আশ্রয় নিয়েছে। তাদের শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।সেখানে কাচা ঘর বাড়ি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মনপুরার হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসের হাটে নিন্ম অঞ্চল,কলাতলি,চর সামসুদ্দিন ও কাজির চর, চর নিজাম ৪/৫ ফুট পানিতে প্লাবিত। 
 
এদিকে ঘুর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে  সকাল থেকে হালকা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। পাশাপাশি উত্তাল হয়ে উঠে মেঘনা নদী। ইতিমধ্যে নদী ও সাগর তীরবর্তী এলাকায় থাকা মাছ ধরা ট্রলারগুলো নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্য  স্বেচ্ছাসেবক কোষ্টগার্ড সতর্ক বার্তা প্রচার করেছে। । ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে শনিবার সন্ধ্যা থেকে ভোলা-ল²ীপুর নৌ-রুটের লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে বহু পন্যবাহি যানবাহ আটকা পড়েছে। এদিকে জেলে ও নদীর তীরবর্তী দুর্গম এলাকায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কায় সতর্কাবস্থায় রয়েছে প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় শনিবার রাতে 'জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি' জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার ৮৬৯টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ১৪টি মুজিব কিল্লা প্রস্তুত করা হয়েছে। ১৩ হাজার ৮৬০জন সিপিপির স্বেচ্ছাসেবক সদস্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় মাঠে কাজ করছে। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম ও ৮টি কন্ট্রোল রুম। 
ভোলা জেলা প্রশাসক  আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন,সন্ধ্যা পর্যন্ত দুর্গম চরাঞ্চল এলাকার প্রায় ৩৫ হাজার লোক কে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এবং হাজার গবাদী নিরাপদে এসেছে। রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।
 
 
লালমোহন প্রতিনিধি জানান, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব পড়ছে ভোলার লালমোহন উপজেলায়। এখানে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত চলছে। শনিবার রাত থেকে রোববার দিনব্যাপী লালমোহন উপজেলাজুড়ে চলতে থাকে হালকা বাতাস ও গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টি। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে উত্তাল রয়েছে উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী। বেড়েছে স্বাভাবিকের তুলনায় পানিও।
 
ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে লালমোহন উপজেলা প্রশাসন। এরইমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৫৩টি সাইক্লোন শেল্টার। গ্রামে-গ্রামে মানুষজনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কার্যক্রম চালাচ্ছে সিপিপি, রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংগঠন। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি জানতে এবং জানাতে স্থাপন করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। ঘূর্ণিঝড় রেমাল থেকে রক্ষা পেতে ইতোমধ্যে লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন এক হাজারেরও অধিক মানুষ। অন্তত পাঁচশত গবাদি পশুকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। এসব মানুষের মাঝে শুকনা খাবার এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মজুদ রয়েছে বিশেষ বরাদ্দ।
 
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে এরই মধ্যে মানুষজন আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা তাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছি
 
 শশীভূষন প্রতিনিধি ইসরাফিল নাঈম জানান,
 ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ভোলার চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচর ও চরকুকরী-মুকরী ইউনিয়নের চর পাতিলা গ্রামে অতি জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। রোববার (২৬ মে) দুপুরে ঢালচর ও চরপাতিলা, মুজিব নগর ইউনিয়নের সিকদার চরের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পরেছে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকার মানুষের মধ্যে।
 
ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান সালাম হাওলাদার জানান, ঢালচর ইউনিয়ন ও চর-পাতিলায় বেড়িবাঁধ না থাকায় অতি জোয়ারে এসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে মানুষের বসত ঘর। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষকের রবিশষ্য। জোয়ারের তান্ডবে এসব ইউনিয়নের কাঁচা ও পাকা রাস্তার উপর দিয়ে স্রোত বয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাগুলো ভেঙ্গে গেছে। পুকুর-ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। প্লাবিত ইউনিয়নের বেশীরভাগ ঘরভিটার উপর দিয়ে স্রোত গড়িয়ে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। জোয়ারের প্রবল টান আর ঢেউয়ের তোপে সাগরে ভেসে গেছে ঢালচরের শতশত গবাদি পশু। বেশীরভাগ বির্স্তীর্ণ এলাকার মানুষ পানি বন্ধী হয়ে পড়েছেন। আকাশ মেঘছন্ন থাকার কারনের থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল শনিবার রাত থেকে এসব এলাকার সাধারন মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ার জন্য প্রচার প্রচারনা চালনো হচ্ছে।
 
চরফ্যাশন থেকে এআর সোহেব চৌধুরী জানান,
ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ঝরো বাতাসের তীব্রতায় পানির উচ্চতা বেড়ে প্লাবিত হয়েছে চরফ্যাশন উপজেলার উপক‚লীয় এলাকাগুলো।
 
মেঘনা তেঁতুলিয়াসহ সমুদ্রের পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আজ রবিবার (২৬ মে) সকাল থেকে প্রায় সাড়ে ৪ ফিট বেড়েছে বলে জানান স্থানীয় নদী উপক‚লের বাসিন্দারা।
 
সকাল থেকেই রেমালের প্রভাবে চরফ্যাশনে কালো মেঘে রুপ নিয়ে প্রচন্ড ঝড়োগতিতে বৃষ্টিসহ বাতাস বইছে। এতে আবহাওয়া ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপক‚লসহ উপজেলার বাসিন্দারা।
 
এছাড়াও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো বাতাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। ফলে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে পুরো চরফ্যাশন উপজেলা।
 
এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় বিঘœ হচ্ছে টেলিযোগাযোগসেবাও। অধিকাংশ এলাকায় পাওয়া যাচ্ছেনা মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা। পাশাপাশি দেখা মোবাইল নেটওয়ার্ক জটিলতায় প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থা বিরাজ করছে এ উপক‚লীয় অঞ্চলে।
 
রবিবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বেতুয়া লঞ্চ ঘাট, হাজারীগঞ্জ ও জাহানপুর ইউনিয়নসহ বেশকিছু এলাকায় রেমালের প্রভাবে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘাটে নোঙ্গর করা প্রায় শতাধিক ছোট-বড় নৌকা ও মানুষের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, পুকুর তলিয়ে গিয়েছে।
 
উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর পাতিলা এলাকার বাসিন্দা আহমেদ নোমান বলেন, আমাদের এখানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ঘুর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে ঘাট তলিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। তাই আমরা ঝুঁকিতে রয়েছি।
 
ঢাল চরের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান জানান,ঢাল চরে ইতিমধ্যে পানি ঢুকে গিয়েছে। যার ফলে ঘর দরজা ভেঙে গিয়েছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচরের চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদার বলেন, চরের ভেতরে প্রায় ৩-৪ ফিট পানি উঠেছে। চরে প্রায় ১২হাজার বাসিন্দা অবস্থান করছে। আশ্রিতদের জন্য খিচুড়ির ব্যবস্থা করেছি।
 
চরফ্যাশন পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসার মো.মিজানুর রহমান জানান, গত শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে জেলার অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সাথে চরফ্যাশনেও ঝড়ের গতি বেশি। বিভিন্ন জায়গায় গাছ পড়ছে। এসব কারণে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাতাসের গতি কমে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে।
 
এ বিষয়ে চরফ্যাশন পানি উন্নয়ন বোর্ড-০২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.হাসানুজ্জামান বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় রবিবার জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নওরীন হক জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় উপক‚লীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। উপজেলায় ১৫৬ টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এবং প্রায় ৩০০ এর বেশি স্বেচ্ছাসেবী মোতায়ন রয়েছে।
 
তিনি আরো বলেন, ফায়ার সার্ভিস, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও সিভিল ডিফেন্সকে প্রস্তুত রাখাসহ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২৬ টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। উপক‚লীয় মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যেমে টিম গঠন করে স্থানীয় এলাকায় জনগনকে সচেতন ও সর্তক থাকতে কন্ট্রোল রুমের মধ্যে দিয়ে প্রচার প্রচারণা জোরদার করা সহ উপক‚লের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
 
মনপুরা প্রতিনিধি জানান , ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলায় ঘূর্ণীঝড়ের প্রভাবে মেঘনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে মূল ভূ-খন্ডের বেড়ীর বাহিরের নি¤œাঞ্চল জোয়ারের পানিতে ২-৩ ফুট প্লাবিত হয়। বিকেল বাড়ার সাথে সাথে বাতাসের গতি বৃদ্ধি পায় ও ভারি বৃষ্টি শুরু হয়। এদিকে বাতাসের গতি বৃদ্ধি ও মেঘনায় পানি বেড়ীবাঁধ উপচে প্রবাহিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বাসিন্দারা দ্রæত দলবেঁধে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে দিকে ছুটতে শুরু করে।
 
এদিকে বিকেল সাড়ে ৫ টায় বাতাসের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়ন ও ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের পূর্বপাশের ৪ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ উপচে মেঘনার পানি প্রবাহিত হয়। এছাড়াও কোথাও কোথাও বেড়ীবাঁধ ক্ষয়-ক্ষতি হতে দেখা গেছে।
 
এছাড়াও উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন নবগঠিত ৫ নং কলাতলী ইউনিয়ন চারপাশে বেড়ীবাঁধ না থাকায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সেখানে রোববার বিকেলে মেঘনায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৩-৪ ফুট জোয়ারের প্লাবিত হয়েছে বলে মুঠোফোনে জানান কলাতলী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার।
 
সরেজমিনে সকাল থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনারচর, চরযতিন, চরফৈজুদ্দিন কুমিরখালীর পূবপাশে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেড়ী উপচে পানি প্রবাহিত হয়। এতে ওই এলাকার ৪ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ ক্ষয়ক্ষতি হয়। জোয়ারের পানিতে হাজিরহাট ইউনিয়নের বেড়ীর বাহিরে ৩ টি ঘর ভেঙ্গে পড়ে।
 
 এছাড়াও ১ নং মনপুরার ইউনিয়নের পূর্ব আন্দির পাড় ও রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। কয়কটি স্থানে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে যায়।
 
স্থানীয়রা জানান, রাতে জোয়ারে বৃদ্ধি পাবে। এতে হাজিরহাট ও মনপুরা ইউনিয়নের পূর্বপাশে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে। তাই তারা আতংকিত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছে।
 
এই ব্যাপারে হাজিরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন হাওলাদার জানান, হাজিরহাটের পুর্বে পাশে ৪ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। জোয়ারের পানিতে বেড়ীর বাহিরে ৩ টি ঘর ভেঙ্গে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জিও ব্যাগ ফেলে বেড়ীবাঁধ রক্ষার জন্য জানানো হয়েছে।
 
এই ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তা মনপুরায় অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়ীবাঁধ সংস্কারের কাজ করছে।
 
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জহিরুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণীঝড় মোকাবেলায় প্রশাসনের তরফ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রস্তু রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা সকলকে শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিক্ষতি বেড়ীবাঁধ সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

 





ভোলার উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানরা

ভোলার উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানরা

ভোলায় মহাতাবু জলসার মধ্য দিয়ে শেষ হলো কাব স্কাউট ইউনিট  লিডার বেসিক কোর্স

ভোলায় মহাতাবু জলসার মধ্য দিয়ে শেষ হলো কাব স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্স

ভোলায় জমে ওঠেছে পশুর হাট দাম চওড়া হওয়ায় বিক্রি কম

ভোলায় জমে ওঠেছে পশুর হাট দাম চওড়া হওয়ায় বিক্রি কম

দৌলতখানে কৌশর মেলায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

দৌলতখানে কৌশর মেলায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

ঢাকা নটরডেম কলেজে চান্স পাওয়া ভোলার মাহদি আল মুহতাসিমের স্বপ্ন এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হবার

ঢাকা নটরডেম কলেজে চান্স পাওয়া ভোলার মাহদি আল মুহতাসিমের স্বপ্ন এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হবার

ভোলায় ডাক্তার ও নার্সদের শূন্যপদ  পূরণের দাবীতে মানববন্ধন

ভোলায় ডাক্তার ও নার্সদের শূন্যপদ পূরণের দাবীতে মানববন্ধন

এবার ঈদে ভোলার আকর্ষণ ২৫ মণের লাল চাঁন

এবার ঈদে ভোলার আকর্ষণ ২৫ মণের লাল চাঁন

তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে : প্রধানমন্ত্রী

তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে : প্রধানমন্ত্রী

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মো. নাসিমের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মো. নাসিমের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

তিস্তা মহাপরিকল্পনার সবশেষ পরিস্থিতি জানালেন প্রধানমন্ত্রী

তিস্তা মহাপরিকল্পনার সবশেষ পরিস্থিতি জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আরও...