অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ৪ঠা মে ২০২৬ | ২০শে বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলায় আরও ৯ টি কূপসহ মোট ১৮ টি কূপ খননের পরিকল্পনা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫শে জানুয়ারী ২০২৪ রাত ০৮:৪৭

remove_red_eye

২৯৮

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ তিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ভোলার গ্যাসকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই সাথে দেশের বিদ্যুৎ ও ইন্ড্রাস্ট্রি খাতে যেখানে সংকট রয়েছে সেখানে গ্যাসের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য ভোলায় আরও গ্যাসের অনুসন্ধান চালানো হবে এবং ভবিষ্যতে আরও ৯ টি কূপসহ মোট ১৮ টি কূপ খনন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) প্রতিমন্ত্রী সকালে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে বৃহষ্পতিবার দুপুরে' শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন, কূপ খনন ও সাইসমিক জরিপ কার্যক্রম বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং বোরহানউদ্দিনে ২২০ ও ২২৫ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।  এ সময় ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল ও জ্বালানি সচিব সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের আরেকটা পরিকল্পনা আছে, ভোলায় আরো নয়টি কূপ খনন করা। আমাদের ইচ্ছা প্রায় ১৮ টি কুপ খনন করা।  আমরা টুডি এবং থ্রিডি করতে বলেছি, ভোলার অভ্যন্তরে ও আশেপাশেও নদী এলাকায় সার্ভে চালানো হবে। আমরা সেই ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে, যত দ্রæত সম্ভব পাড়া যায় গ্যাসক্ষেত্রের অনুসন্ধান চালানো হবে।


জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের এখানে আরো একটি প্রসেসপ্লান্ট লাগবে। কারণ ভোলায় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হচ্ছে।  আমরা জানি, ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি, অ্যাডভান্স সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রসেসপ্ল্যানগুলো খুব দ্রæত এনে বসানোর জন্য বলেছি। ভোলার ৩০০ এমএমসিএফ গ্যাস পাইপ লাইন করে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে নেয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোলা থেকে পটুয়াখালীতে গ্যাসের পাইপলাইন পৌঁছাতে এবং ভোলার পৌরসভাগুলোতে পাইপলাইন পৌঁছাতে সাড়ে ৩ বছর সময় লাগবে।  এখানের ইন্ডাস্ট্রি ছাড়াও আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে। এখানকার আবাসিক খাতে খুবই কম সংযোগ দেওয়া আছে। বাকিটা দেওয়ার জন্য আমরা ইতিমধ্যে টেন্ডার করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে আমরা এই এলাকায় বাকিটার ব্যবস্থা করব। পাইপলাইন করার জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি হাতে পেয়েছি। আমরা রুট ও পেয়ে গেছি। আর একটা রুট নিয়ে এখন কাজ করতে হবে। সে রুটটি সম্পূর্ণ হলে, তিন থেকে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে, পাইলাইন টানা হবে।
বিদ্যুত ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের আরেকটি পরিকল্পনা হচ্ছে,  ভোলা জেলায় যে পৌরসভাগুলো আছে, সেই পৌরসভাগুলোতে গ্যাস সংযোগের জন্য পাইপ লাইন টানা। সেখানে গ্যাসের বিতরণ লাইন করার জন্য ইতিমধ্যে আমরা টেন্ডার আহবান করেছি। ভবিষ্যতে আমরা প্রত্যেক বাড়িতে গ্যাস মিটার দিয়ে গ্যাসের সংযোগ দিয়ে গ্যাস পৌছে দেব।' তারপরে আমরা বাকি গ্যাস বরিশালে নিয়ে যাব। আগে ভোলার ইন্ডাস্ট্রিতে কানেকশন দেবো, এখানে ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে। গ্যাসকে উত্তম ব্যবহার করে,  অন্য কোনো ইন্ডাস্ট্রি নির্মাণ করা যায় কিনা। কেননা এখানে ইন্ডাস্ট্রি করার অনেক ডিমান্ড আছে,  এখানে অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রি হতে যাচ্ছে,  তারা পাইপলাইনের জন্য অ্যাপ্লাই করেছে,  সেগুলোর ডিমান্ড ফুলফিল করে,  বিদ্যুতের চাহিদা ফুলফিল করে, ভোলাকে প্রধান্য দেওয়া হবে। প্রধান্য দিচ্ছি, যাতে ভোলার শহর, পৌরসভা  স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, এখানকার জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়, সেগুলোর ব্যবস্থা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা বরিশাল, পটুয়াখালী গ্যাস নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। পটুয়াখালীতেও গ্যাস যাবে সে পরিকল্পনাও করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে আমরা খুলনাতে নিয়ে যাব। পায়রা বন্দর দিয়ে আরেকটি গ্যাস লাইন আসবে। সর্বোপরি পরিকল হলো, ভোলার গ্যাসকে কিভাবে সর্বোত্তম  ব্যবহার করা যায়।
নসরুল হামিদ বলেন, আপনারা ইতিমধ্যে লক্ষ্য করেছেন, সিএনজি করে কিছু অংশ গ্যাস ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।  আমাদের মেইন উদ্দেশ্য হল, সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রি এবং বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে, যেখানে গ্যাসের স্বল্পতা আছে, সেখানে গ্যাস পৌঁছে দেয়া হবে। তিনি  বলেন, ভোলা পৌর এলাকায় আবাসিক ও গৃহস্থলি কাজেও মিটারের মাধ্যমে সংযোগ দেয়ার জন্য কাজ চলমান রয়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন, ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ড থেকে ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমএসএফ) গ্যাস নিচ্ছি।  উত্তোলিত গ্যাসের একটা বড় অংশ দিয়ে তিনটি পাওয়ার প্লান্টে ব্যাবহার করে বিদ্যুত উৎপাদন  হচ্ছে।  আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা এখান থেকে আরও ৩০০ এমএমএসএফ গ্যাস পাইপ লাইনে করে বরিশাল হয়ে পটুয়াখালী পাঠানো হবে। এটা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।