অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১৫ই জুন ২০২৪ | ১লা আষাঢ় ১৪৩১


তরুনীর ভাবনায় অধ্যাক্ষ এম এম নজরুল ইসলাম


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ রাত ১০:১৫

remove_red_eye

১০৭

সুমাইয়া রশিদ প্রিয়ন্তী : দ্বীপজেলা ভোলার সর্বদক্ষিণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চরফ্যাসন- মনপুরা। ১৯৪৩ সালের ১৬ অক্টোবর ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে রাজনীতিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মিয়া মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের জন্মগ্রহণ করেন। মায়ের চাদের টিপের মতো দ্বীপ জেলার সর্বদক্ষিণে এক অবহেলিত জনপদ ছিল চরফ্যাসন ও মনপুরা, এ জনপদের প্রাণ পুরুষ “অধ্যক্ষ মিয়া মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এই অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি,'সাংবাদিকতা ও সমাজ বির্নিমানে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
তিনি চরফ্যাশনে এসে এলাকার মানুষের অনুরোধে শিক্ষাকে মহানব্রত মেনে নিয়ে নিজের প্রজ্ঞা এবং মেধায় একে একে চরফ্যাসন টি, ব্যারেট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চরফ্যাসন মহাবিদ্যালয়কে শ্রেষ্ঠতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলেন।
তিনি বাঙালি জাতির জনক "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান" এর ডাকে সাড়া দিয়ে; ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে স্থানীয় ভাবে সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। তাই তো এই জনপদের মানুষের ভালোবাসা এবং প্রদ্ধা নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি দু'দুবার মহান জাতীয় সংসদে এলাকার মানুষের জন্য প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ সব কিছুকে ছাড়িয়ে তিনি সকলের কাছে হয়ে উঠেন প্রিন্সিপাল স্যার। জাতীয় সংসদে সবসময় দেশ ও জাতীর কল্যানে দৃঢ়তার সাথে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এই মনীষী ১৯৯২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সেদিন চরফ্যাসন-মনপুরার আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয় অভিবাবক হারামানুষের আর্তচিৎকারে। এমনকি  জাতীয় সংসদেও একজন দক্ষ সংসদ সদস্য হিসেবে সরকার ও বিরোধী দলের নেতা ও সংসদ সদস্যগণের মধ্যে ফুটে উঠে প্রিয় সহকর্মীকে হারানোর হাহাকার।
ঠিক তখন চরফ্যাসন- মনপুরায় রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ায়,এই মনীষির মৃত্যুর ১৬ বছর পর তার জৈষ্ঠ্য পুত্র  বর্তমান জাতীয় যুব ও ক্রিয়া মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি মহোদয় তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
টানা এক যুগের বেশি সময় ধরেনি রলসভাবে শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়নে বিপুল সংখ্যক কাজ করেছেন। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য তাঁর পিতার রেখে যাওয়া সকল কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা। তাঁর মরহুম পিতার নামে গড়ে তুলেন অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন। যা গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন বৃত্তি সংবর্ধনা। এবং অসহায় সুবিধা বঞ্চিত গরীব নারী পুরুষ এবং মা ও শিশুদের জন্য চিকিৎসাসহ নানান মানবিক সহায়তা করে আসছেন। তাঁর উন্নয়নের ব্যাপ্তি বিশাল। "বাংলার আইফেল খ্যাত জ্যাকব টাওয়ার ঘিরে এ উপজেলায় পর্যটনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
চরফ্যাসনের অভাবনীয় উন্নয়নের সফলতায় লাখো চোখ এখন আবদুল্লাহ আল- ইসলাম জ্যাকবকে ঘিরে। তাঁর দুটি চোখ এখন লাখো মানুষের সপ্নের বীজ বুনে। ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ এ উপজেলার মাটি ও মানুষের সন্তান আবদুল্লাহ আল-ইসলাম জ্যাকব'এমপির পিতা মরহুম অধ্যক্ষ মিয়া মোহাম্মদ  নজরুল ইসলামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে চরফ্যাসন ও মনপুরার মানুষ আজও তাকে বিনম্ন প্রদ্ধায় স্মরণ করেন। লেখক: সুমাইয়া রশিদ প্রিয়ন্তী,দ্বাদশ প্রেণীর শিক্ষার্থী,ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয ,চরফ্যাশন, ভোলা।