অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১৫ই জুন ২০২৪ | ১লা আষাঢ় ১৪৩১


বিমায় ভর করে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ সন্ধ্যা ০৬:৩৩

remove_red_eye

১০৭

টানা তিন কর্যদিবস দরপতনের পর মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিলেছে। পতন থেকে বের করে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখীতায় নিয়ে আসতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে বিমা খাত। প্রায় সবকটি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় মূল্যসূচক যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে লেনদেনের গতি।

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্যসূচকের মোটামুটি বড় উত্থান হয়েছে। সেইসঙ্গে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটির ঘরে চলে এসেছে।

এর আগে সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। তার আগে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও দরপতন ঘটে। টানা তিন কর্যদিবস দরপতনের পর মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই প্রায় সবকটি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়ে যায়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতগুলোর উপরও। এতে লেনদেনের শুরুতেই মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিলে।

লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বিমা খাতের দাপটও বাড়তে থাকে। এতে দুটি বিমা কোম্পানি দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়ে দিনের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি চলে আসে।

বিমা কোম্পানিগুলোর এ দাম বাড়ার প্রবণতা অন্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে দিনের লেনদেন শেষে দাম বাড়ার তালিকাও বড় হয়। ডিএসইতে দিনের লেনদেন শেষে ১১৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৯টির এবং ১৫১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিমা কোম্পানি রয়েছে ৪৭টি। আর দাম কমার তালিকায় বিমা কোম্পানি আছে ৩টি। বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দাম বাড়ার ক্ষেত্রে এমন দাপট দেখানোর দিনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩০০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৩৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫২২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৪৪৬ কোটি ২ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৭২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

মূল্যসূচকের মতো লেনদেন বাড়াতেও বড় ভূমিকা পালন করেছে বিমা খাত। ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টিই রয়েছে বিমা খাতের কোম্পানি। অবশ্য বিমা খাতের দাপটের মধ্যেও গত কয়েক কার্যদিবসের মতো লেনদেনের শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখেছে ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৪ কোটি ৪৩ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিরকল ইন্ডাস্ট্রিজের ২০ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। পরের স্থানে থাকা কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ইস্টার্ন হাউজিং, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স।

অপর শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৭টির এবং ৯৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

সুত্র বাসস