অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১৫ই জুন ২০২৪ | ১লা আষাঢ় ১৪৩১


সঞ্জয় চৌধুরীর গল্প: সুহাসিনী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২শে জুলাই ২০২৩ সন্ধ্যা ০৭:৪৯

remove_red_eye

২১৪

এখন প্রায়ই মন খারাপ থাকে চৈতীর। গত শুক্রবার তার বিয়ের কথা ছিল। এলাকার কমবেশি সবারই দাওয়াত ছিল তার বিয়েতে। শেষমেশ যৌতুকের টাকা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় বিয়েটা ভেঙে যায়।
অভ্র সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই এখানে দাঁড়িয়ে থাকে। এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে চৈতীর বাসার ছাদটার দিকে। যেন শূন্যে খুঁজে ফেরে কিছু একটা! অপেক্ষার প্রহর শেষে এক কাপ কফি নিয়ে ছাদে আসে চৈতী। চৈতীকে ওই এক পলক দেখার মাঝেই যেন শান্তি মেলে অভ্রর। অপলক দেখে যায় চৈতীকে।
চৈতী যখন রিকশায় বসে কোচিংয়ে যায়, অভ্রও সাইকেল নিয়ে ছুটে চলে তার পিছু পিছু। অভ্র কখন যেন নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছে মেয়েটিকে।
সেদিন কোচিং শেষ করে চৈতী বাসায় ফিরছিল। রাস্তায় অভ্রকে দেখে তাকে ডেকে পাঠালো চৈতী। হালকা বিরক্তির সুর নিয়ে বলল, ‘আচ্ছা, আপনার সমস্যা কী? প্রতিদিন আমার বাসার সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকেন কেন? প্রতিদিন আমার পিছু পিছু কোচিং পর্যন্তইবা যান কেন?’
অভ্র হঠাৎ এমন প্রশ্ন শুনে ঘাবড়ে যায়। কিছুটা অপ্রস্তুতভাবে মাথা নিচু করে জবাব দেয়, ‘আসলে আমি তোমাকে পছন্দ করি।’
চৈতী একটু রেগে অভ্রকে জিজ্ঞাসা করে, ‘পছন্দ করি মানে!’
চৈতীর চোখের দিকে তাকিয়ে এককথায় জবাব দেয় অভ্র, ‘ভালোবাসি তোমাকে।’
চৈতী প্রচÐ রেগে গিয়ে বলে, ‘আমার সম্পর্কে কী জানেন আপনি? আপনাদের এই জেনারেশনের ভালোবাসা সম্পর্কে আমার খুব ভালো জানা আছে।’ বলে হনহনিয়ে পাশ কেটে চলে যায়।
পরদিন একইভাবে কোচিং শেষ করে বাসায় ফিরছিল চৈতী। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সাইকেল নিয়ে চৈতীর পিছু পিছু আসছিল অভ্র। হঠাৎ চৈতী হাঁটা থামিয়ে দিয়ে অভ্রকে ডেকে বলল, ‘সমস্যা কি আপনার?’
অভ্র মাথা তুলে জবাব দিলো, ‘কালকে তো বলেছি, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
চৈতী প্রচÐ মেজাজ খারাপ নিয়ে উত্তর দিলো, ‘আপনাদের ভালোবাসা মানে তো শুধু শারীরিক চাহিদা। আজকে আমার পেছনে তো কালকে আবার অন্য কোনো মেয়ের পেছনে ছুটবেন। এসব জানা আছে আমার।’
চৈতীকে থামিয়ে দিয়ে অভ্র বলল, ‘আমি কখনো তোমার হাতও স্পর্শ করবো না।’
চৈতী আজও কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে থাকে। কিছুদূর এগোতেই চৈতীর মুখে একটু মুচকি হাসির রেখা ফুটে ওঠে।
বরাবরের মতোই চৈতী কোচিং শেষ করে বাসায় ফিরছে। তবে আজ তার পিছু পিছু অভ্র নেই। চৈতীর দু’চোখ নিজের অজান্তেই বারে বারে অভ্রকে খুঁজছে। একটু এগোতেই অভ্রর দেখা পাওয়া গেলো। তবে আজ আর সাথে সাইকেলটা নেই। চৈতী নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘আজকেও আপনি আমার পথে দাঁড়িয়ে আছেন? আচ্ছা, আপনি কী চান বলুন তো?’ উত্তরে অভ্র বললো, ‘আপাতত তোমার মোবাইল নাম্বারটা চাই।’
মুচকি হেসে চৈতী উত্তর দিলো, ‘আমার মোবাইল নাম্বার আমি আপনাকে কেন দেবো?’
‘যদি আজকে তোমার মোবাইল নাম্বার না দাও, তাহলে আমি এই রাস্তাতেই বসে থাকব।’ বলে সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তায় বসে পড়লো। চৈতী কী করবে বুঝতে না পেরে অবশেষে মোবাইল নাম্বার দিতে রাজি হয়।
মুঠোফোনে এগোতে থাকে তাদের কথোপকথন। চৈতী ছাদে বসে ভাবতে থাকে, অভ্রর সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকে কীভাবে যেন তার জীবন থেকে হতাশাগুলো হারিয়ে গেলো। সে বোধহয় অভ্রকে ভালোবেসে ফেলেছে। এটা ভেবেই লজ্জায় মুষড়ে পড়লো। মনে মনে ভাবলো, এখন সময় এসেছে সম্পর্কের একটা নাম দেওয়ার।
রাতে অভ্র ফোন দেওয়ার পর চৈতী বলল, ‘আচ্ছা অভ্র, কাল বিকেলে আমার সাথে দেখা করতে পারবে?’
‘হ্যাঁ, পারবো!’ উত্তর দিলো অভ্র।
‘তোমার সাথে আমার বেশ জরুরি কিছু কথা আছে। একটা সুন্দর পাঞ্জাবি পরে ঠিক বিকেল পাঁচটায় আমার কোচিংয়ের পাশের রেস্টুরেন্টে চলে আসবে।’
অভ্র নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই রেস্টুরেন্টে এসে চৈতীর জন্য অপেক্ষা করছে। মনে মনে ভাবছে, অপেক্ষার প্রহর এত দীর্ঘ হয় কেন? একসময় অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চৈতীর আগমন হলো। একটু মুচকি হেসে ব্যাগ থেকে একটা গোলাপ বের করে এগিয়ে দিলো অভ্রর দিকে। দেখে অভ্রও হেসে ফেলে।
অভ্র তার বুক পকেটে লুকিয়ে রাখা চিরকুটটি বাড়িয়ে দিলো চৈতীর দিকে। গোটা গোটা অক্ষরে চিরকুটে লেখা, ‘প্রিয় সুহাসিনী, এতটা ভালো আমি আর কাউকে বাসিনি।’

সুত্র জাগো