অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১৫ই জুন ২০২৪ | ১লা আষাঢ় ১৪৩১


ভাঙা সম্পর্ক-টয়লেটসহ উদ্ভট যত জাদুঘর আছে বিশ্বে


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ই মে ২০২৩ সন্ধ্যা ০৬:১৭

remove_red_eye

৪৮৭

জাদুঘর ইতিহাসকে ধারণ করে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানতে, শিখতে ও বুঝতে পারে সে উদ্দেশেই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশ্বের সব দেশেই বিভিন্ন ধরনের জাদুঘর আছে, যেখানে সংরক্ষিত আছে স্ব-স্ব দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

তবে বিশ্বে এমনও কিছু জাদুঘর আছে যেগুলো এতোটাই অদ্ভূত ও উদ্ভট যে দেখলে আপনি হতবাক হয়ে যাবেন, তেমনই কিছু জাদুঘর সম্পর্কে জেনে নিন-

ভাঙা সম্পর্কের জাদুঘর, জাগরেব, ক্রোয়েশিয়া

এই অদ্ভুত ও বিস্ময়কর জাদুঘরটি জাগরেবের শিল্পীরা স্থাপন করেন। প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকাদের প্রতি সম্মান জানাতে ও তাদের প্রেমের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয় এই জাদুঘরে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীরা তাদের ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের বিভিন্ন স্মৃতি নিয়ে হাজির হন এই জাদুঘরে।

বেশ জনপ্রিয় এই জাদুঘরে এ পর্যন্ত সংরক্ষিত বিভিন্ন ভালোবাসার নিদর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘থেরাপি যন্ত্র’(কুঠার), যেটি একজন তার প্রতারক প্রাক্তনের আসবাবপত্র ভাঙার জন্য ব্যবহার করেন। এছাড়া একজন পুরুষকে তার প্রাক্তন প্রেমিকার দেওয়া কমলা রঙের প্যান্টও সংরক্ষিত আছে ভাঙা সম্পর্কের জাদুঘরে।

ম্যাকডোনাল্ডের ‘বিগ ম্যাক’ মিউজিয়াম, পেনসিলভানিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

পেনসিলভানিয়ার বিগ ম্যাক মিউজিয়ামটি জিম ডেলিগাট্টি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনিই পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার প্রথম ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁ খোলেন। তিনি বিগ ম্যাকও তৈরি করেছিলেন, এটি একটি আইটেম যা প্রথম ১৯৬৭ সালে তার রেস্তোরাঁয় বিক্রি হয়েছিল। যার দাম ছিল মাত্র ৪৫ সেন্ট।

বার্গারপ্রেমীরা চাইলে ম্যাকডোনাল্ড ব্র্যান্ডের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে যেতেদ পারেন এই জাদুঘরে। যেখানে ম্যাকডোনাল্ডের স্মৃতিচিহ্নের সংরক্ষিত আছে। সেখানেই রাখা আছে বিশ্বের বৃহত্তম (প্লাস্টিক যদিও) বিগ ম্যাক।

রুটি সংস্কৃতির জাদুঘর, উলম, জার্মানি

জার্মানরা ময়দা-ভিত্তিক খাবার বেশি পছন্দ করেন। আর সে কারণেই সে দেশে গেলে খুঁজে পাবেন রুটির মিউজিয়াম। এই জাদুঘরটি দুই উদ্যোক্তা মিলে প্রতিষ্ঠা করেন। জানা যায়, ১৯৬০ সালে তারাই বেকারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।

আর তাদের ওই বেকারিই পরবর্তী সময়ে জাদুঘরে পরিণত হয়। যা এখন একটি দাতব্য ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত হয়। দর্শনার্থীরা সেখানে গিয়ে বেকিং টুলের আকর্ষণীয় প্রদর্শনী দেখতে পারবেন।

কানসাস কাঁটাতারের জাদুঘর, কানসাস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

আপনি কি জানেন, ১৮৭৪ সালে প্রথম কাঁটাতারের পেটেন্ট করা হয়েছিল। আবার প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যখন এর শক্তি শত্রু ট্যাঙ্কের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধক করে তুলেছিল।

এই জাদুঘরে ২০০০টিরও বেশি ধরনের কাঁটাতার আছে। যা দেখে আপনি রীতিমতো অবাক বনে যাবেন। আমেরিকার শীর্ষ কাঁটাতারের প্রশংসা ক্লাবের নিউজলেটারগুলো দেখতে পাবেন সেখানে।

মে মাসে সেখানে গেলে আপনি বার্ষিক কাঁটাতার অদল-বদল ও বিক্রিতে অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া কাঁটাতারের স্প্লাইসিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।

মেগুরো প্যারাসিটোলজিক্যাল মিউজিয়াম, টোকিও , জাপান

১৯৫৩ সালে আবেগপ্রবণ প্যারাসাইটোলজিস্ট ডা. সাতোরু কামেগাই স্থাপন করেন এই জাদুঘর। পরজীবীবিদরা চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন সেখানে। সেখানে ৬০ হাজারেরও বেশি পরজীবীর নমুনা আছে।

সেখানে আরও আছে পরজীবীবিদ্যার উপর ৫০ হাজার বই। সেখানকার সবচেয়ে ভয়ংকর প্রদর্শনী হলো ৮ মিটার লম্বা একটি ফিতাকৃমি।

সুলভ ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম অব টয়লেট, নিউ দিল্লি, ভারত

টয়লেটেরও জাদুঘর আছে! বিষয়টি অবাক করা হলেওসত্যিই। স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ ডা. বিন্দেশ্বর পাঠক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় এই জাদুঘর। এটি তিন ভাগে বিভক্ত- প্রাচীন, মধ্যযুগীয় ও আধুনিক।

প্রাচীন বিভাগে প্রথম মনুষ্যসৃষ্ট টয়লেট (পাকিস্তানে পাওয়া ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে) সম্পর্কিত প্রদর্শনী আছে, যখন মধ্যযুগীয় বিভাগে হাতে আঁকা অলংকৃত অস্ট্রিয়ান টয়লেট বাটিগুলো সত্যিই শ্বাসরুদ্ধকর!

আধুনিক বিভাগে আপনি বিশ্বের বৃহত্তম ‘টয়লেট কমপ্লেক্স’ এর প্রতিরূপ সহ হাই-টেক জাপানি ও কোরিয়ান টয়লেট দেখতে পাবেন। যা পশ্চিম-মধ্য ভারতের মহারাষ্ট্রেও পাওয়া যেতে পারে।

সুত্র জাগো