বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির অন্যতম ধারক এবং উদ্ভাবনীর চালক। এই খাত দেশের অর্থনীতি বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ হওয়ার ক্ষেত্রে এসএমই’র উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

গতকাল বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন (এফএফডি) ফোরাম’- এর চলতি অধিবেশনের সাইডলাইনে ইউএনডিপি ও ইউএনসিপিএফ আয়োজিত ‘নীতির স্পটলাইট : অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে অর্থায়নের উদ্ভাবনী কৌশল’- শীর্ষক এক ইভেন্টে কী-নোট স্পীকার হিসেবে বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজের প্রসারে শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্যের কথা এভাবে তুলে ধরেন। ইভেন্টটির সহ-আয়োজক ছিল বাংলাদেশ।

এমএসএমই উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে নজিবুর রহমান বলেন, সরকার এমএসএমই অগ্রায়নে একটি আলাদা এসএম’ই ফাউন্ডেশন সৃষ্টি করেছে। পুঁজি বাজারে এমএসএমই’র অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংক এমএসএমই-এর জন্য ‘এজেন্ট ব্যাংকিং স্কীম’ প্রবর্তন করেছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,দেশের ৯০ ভাগ মানুষ এখন মোবাইল ব্যবহার করছে। মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৬০ মিলিয়ন। মোবাইল ব্যবহারকে ঘিঁরে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ব্যাপক বিস্তৃতি এবং সেই সাথে ব্যাংকিং, আর্থিক আদান-প্রদান ছাড়াও অনলাইন বা মোবাইল অ্যাপস্ ভিত্তিক ব্যবসার প্রসারের বিষয় উল্লেখ করেন তিনি।

মুখ্য সচিব এমএসএমই খাতে তহবিল যোগান দেওয়ার জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং প্রোগ্রামের বর্ণনা দেন।

মুখ্য সচিবের বক্তব্যে বাংলাদেশের ডিজিটাল সেন্টার, এই সেন্টার ঘিরে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সহযোগিতা নেওয়ার কথা; সরকার কর্তৃক নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার কথা উঠে আসে ।

প্যানেলের ছয়জন আলোচক বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ পদক্ষেপ, এমএসএমই উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ, জামানত বিহীন ঋণ, মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পদক্ষেপ এবং অব্যাহত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের এসকল উত্তম অনুশীলন বিশ্বের উন্নয়নকামী দেশসমূহ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারে বলে তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেন।

এদিকে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ একই দিনে জাতিসংঘ সদর দফতরে এফএফডির আরেকটি সাইড ইভেন্টে যোগ দেন। উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করা বিষয়ক এই সাইড ইভেন্টটির আয়োজন করে বাংলাদেশ, জার্মানি, হন্ডুরাস, মালাওয়ি এবং বেসরকারি সংস্থা সিএসও পার্টনারশীপ ফর ডেভেলপমেন্ট ইফেক্টটিভনেস।

ইআরডি সচিব তার বক্তব্যে শেখ হাসিনা সরকার গৃহীত ‘সমগ্র সমাজ দৃষ্টিভঙ্গি’র কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, গণমাধ্যমসহ সকল অংশীজনকে এসডিজি বাস্তবায়ন, অর্থায়ন ও কর্মসূচি প্রণয়নে সম্পৃক্ত করছে। আর এর ফলে সমাজের সকল স্তরে সমানভাবে উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া গতকাল জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন মিশনের সার্বিক কার্যক্রম, জাতিসংঘে বাংলাদেশ অংশগ্রহণের বিস্তারিত বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ সরকারের প্রাধিকারভূক্ত বিষয়গুলো জাতিসংঘে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার প্রাক্কালে সরকারি কর্মকর্তাদের করণীয় বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা নির্দেশিত বিভিন্ন পদক্ষেপ, কৌশল ও পরামর্শগুলো কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন।

গত ১৫ এপ্রিল এফএফডি’র ৪র্থ ফোরাম শুরু হয়।