বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক – বাইপাস সার্জারির পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রায় সুস্থ হয়ে উঠছেন। এরই মধ্যে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করছেন তিনি। আগামী শুক্র বা শনিবার তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা ভালো। আগামী শুক্র বা শনিবার তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।’

এর আগে গতকাল সোমবার (১ এপ্রিল) সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে অবস্থানরত ওবায়দুল কাদেরের একটি ছবি পাওয়া গেছে। তাতে দেখা গেছে, নিজের কেবিনে বসে আছেন ওবায়দুল কাদের। তার একপাশে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (উন্নয়ন এবং পরিকল্পনা) এবং নিওরোলজিস্ট প্রফেসর ডা. আবু নাসার রিজভী, অন্য পাশে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক।

মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে ওবায়দুল কাদেরের। ক্রমেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছেন তিনি।



জানা যায়, ২৬ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার দিকে ওবায়দুল কাদেরকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে ২০ মার্চ মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামির নেতৃত্বে তার বাইপাস সার্জারি হয়েছে।

গত ২ মার্চ ভোরে ঢাকায় নিজ বাসায় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের। সেখানে দ্রুত এনজিওগ্রাম করা হলে তার হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে তিনটি বড় ব্লক ধরা পড়ে। এরমধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের (রিং পরানো) মাধ্যমে দ্রুত অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। তাকে দেখতে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ডেকে পাঠানোয় পরের দিন ঢাকায় উড়ে আসেন ভারতের প্রখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠী।

তারই পরামর্শে ও অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে ৪ মার্চ বিকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সে রাতেই একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা শুরু করেন মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসকরা।