বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সারাদেশে একটি অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৭০-এ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যেমন নৌকার পক্ষে গণজোয়ার হয়েছিল, ঠিক এবারো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভোলাসহ সারাদেশে নৌকার গণজোয়ার। ভোলার ৪টি আসনই নৌকার গণজোয়ার বইছে। ৩০ডিসেম্বর নির্বাচনে বিপুল ভোটে নৌকা জয়লাভ করবে। এখানে আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত। বৃহস্পতিবার (২০ডিসেম্বর) দুপুরে ভোলা শহরের জেলা মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ভোলায় বিএনপি যে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়। বিএনপি নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, তাদের কোন্দল চরমে। ১০ বছরে ভোলায় বিএনপি-আ’লীগ সু-সম্পর্ক ছিল, কাউকে জেলে দেয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, ২০০১ এর পরে বিএনপি মানুষের চোখ তুলে নিয়ে গেছে। গরু জবাই করে খেয়েছে। এবারো নির্বাচনে বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কায়েম করতে চায়। তিনি প্রশ্ন তুলেন কোন নির্বাচনে বিএনপি সন্ত্রাসী করেনি ? বিএনপির সেই অত্যাচারের প্রতিশোধ আওয়ামীলীগ নেয়নি। ২০০১ এর নির্বাচনের পর এমন কোন আওয়ামীলীগ কর্মী ছিলনা, যিনি বিএনপিকে চাদা না দেন নি। এমনকি আমার আত্মীয়-স্বজনরাও বাদ পড়েনি। বিএনপি নিজেরা বোমাবাজি করেছে, পুলিশের ওপর হামলা করেছে, এ কারনেই তারা জেলে গেছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, মুকুল যদি ঘরে ঘরে যেতে পারে, হাফিজ ইব্রাহীম পারছে না কেন ? তারা ভাতের খাবারটা পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে। জয়নগরের শহিদ নামের এক কর্মীকে যতক্ষণ মুখে বিএনপির কথা উচ্চারন না করেছে, ততক্ষণ তার মুখে প্র¯্রাব দিয়েছে। হাফিজ ইব্রাহীম যেদিন ভোলায় ঢুকেছে, সেদিনই আওয়ামীলীগের ২০টি হোন্ডা-গাড়ী পুড়িয়েছে। আমাদের বহু নেতা-কর্মীকে আহত করেছে, তারা এখন হাসপাতালে রয়েছে। ২০০১ এর পরে আমি নিজেও ভোলায় আসতে অসুবিধা হয়েছে। তাদের হাতে সাংবাদিকরাও নিরাপদ নয়।
তিনি আরো বলেন, মেজর হাফিজ ৩শ’ হেলমেট বাহিনী নিয়ে লালমোহনে ঢুকেছে। তারা দু’জন (হাফিজ ও মেজর হাফিজ) জনরোশের ভয়ে ঘরে বসে আছে। লালমোহনের লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ১৫ হাজার লোকের মিলাদ মাহফিল মেজর হাফিজ বাহিনী তা পন্ড করে দিয়েছে। সে দিন আমার গাড়ীর গ্লাস পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলেছে। তখন লালমোহন আওয়ামীলীগ সভাপতি বলেছিলেন, নেতা আপনি চলে যান, কিন্তু আমি সেদিন পালাই নি। আমি বলেছি মরে গেলেও যাব না। মন্ত্রী বলেন, এখন মানুষ নৌকার পতাকা তলে জড়ো হয়েছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, যারা যুদ্ধপরাধী-মানবতাবিরোধী-জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েছে (ড. কামাল, আ স ম আব্দুর রব, কাদের সিদ্দিকী)’র বিচার মানুষ করবে। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড মেরে মানুষ হত্যা করেছে এবং শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, আজ তারাই ওদের সাথে ঐক্য করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, শেখ হাসিনা বিশ্বের একজন মর্যাদাশালী নেতা। আজ বাংলাদেশ দরিদ্রতা নেই, গ্রামগুলো শহরে পরিনত হয়েছে। আগামি ৩০ডিসেম্বর নির্বাচনে আবারো জণগন নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী বানাবে।
সংবাদ সম্মেলনকালে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন টুলু, ভোলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এম এ তাহের, জেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার দোস্ত মাহমুদ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকীব, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল হোসেন বিপ্লব প্রমূখ।