দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সাফল্যের পথে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এ দেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আসছেন প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশিরাও। তারা বিনিয়োগ করতে চান, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সঠিক দিক নির্দেশনা কিংবা ব্যবসায়ীক অংশীদারের খোঁজ পান না। তাই দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের মাঝে যদি নেটওয়ার্ক তৈরি করে দেওয়া যায়, তাহলে এ দেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন গ্লোবাল বিজনেস সামিটের প্রেসিডেন্ট এবং আমেরিকায় রেডিও রূপসী বাংলার প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী নুর ইয়াহিয়া।

সম্প্রতি রাজধানীতে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি ও প্রবাসী ব্যবসায়ীদের মাঝে যোগসূত্র তৈরির লক্ষ্যে আগামী ২৯ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হবে দু’দিনের গ্লোবাল বিজনেস সামিট।

তিনি আরও বলেন, এ সম্মেলনের মাধ্যমে বিদেশি ও প্রবাসীরা যেমন বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধাগুলো জানবেন, তেমনি আমরাও বিশ্বের আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবো। এ দেশে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ টানতে গ্লোবাল বিজনেস সামিটের কোনো বিকল্প নেই। সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যখন বিদেশিদের মিট হবে, তখন বিনিয়োগ অংশীদার খুঁজে পেতেও সমস্যা হবে না।

নুর ইয়াহিয়া বলেন, মূলত আমরা দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাই। বাংলাদেশ সরকার দেশে নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে। বিদেশি ও প্রবাসীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নানা সুবিধা দিচ্ছে। রফতানিতে প্রণোদনা দিচ্ছে। এ বিষয়গুলো যখন আমরা বৈশ্বিক সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরবো, বিদেশিরাও আরও বেশি আকৃষ্ট হবে এখানে বিনিয়োগে।

‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এতে কী নোট বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নের মহাসড়কে যোগ দেওয়ার জন্য সকলকে সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে এবং তাদের সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি বলেন, এখন সময় আমাদের সকলের। আসুন, আমরা সবাই সরকারের উন্নয়নে যার যার অবস্থান থেকে অংশগ্রহণ করি। আর সরকারও বিনিয়োগকারীদের সব সুযোগ-সুবিধা দিতে প্রস্তুত।

এসময় ড. নাজনীন আহমেদ ব্যাখ্যা করেন কীভাবে প্রবাসীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এদেশের জনমানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। অনেকেই স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনার কথা বলেন।