বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চেয়ার‌্যাম্যান নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এক সংখ্যালঘু পরিবারের দের কোটি টাকার প্রায় এক একর ২৮ শতাংশ সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ বছর ধরে ওই জমির সকল আয় চলে যাচ্ছে চেয়ারম্যানের পকেটে। আদালত সংখ্যালঘুর জমির উপর স্থিতিশীল নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিলেও দুই পক্ষের মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এটি ইউনিয়ন পরিষদের সম্পত্তি হিসেবে থাকবে বলে রায় দেন কালমা ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন। শনিবার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যালঘু ওই পরিবারের পক্ষে পাওয়ার অব এ্যটর্নী প্রাপ্ত নরোত্তম ঘরামী এসব অভিযোগ করেন।

নরোত্তম ঘরামী অভিযোগ করেন , সহকারী পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসন ওই জমি ছেড়ে দিতে ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিলেও চেয়ারম্যান কারো কথা শুনছেন না।
নরোত্তম ঘরামী লিখিত অভিযোগে সাংবাদিকদের জানান, অর্জুন দাসের মৃত্যুর পর একমাত্র কন্যা গোলাপী রানী এক একর ৪৮ শতাংশ জমি মালিক হন। গোলামী রানী ও তার স্বামী প্রেমানন্দ মন্ডল ৭ বছর বয়সী পুত্র মনিচন্দ্র মন্ডলকে রেখে মারা যান। ২০১৫ সালে মনিমন্ডলের জমি এলাকার আকবর হোসেন গ্রæপ দখলে নেয়ার চেষ্টা করে তাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। তখন মনি মন্ডল বাদী হয়ে আদালতে দেওয়ানী একটি মামলা দায়ের করেন। তখন আকবর গ্রæপ ওই জমি দখল করার জন্য জন্য ১৯৮০-১৯৮৭ সনের মনিমন্ডলের কাছ থেকে জমিক্রয় করার ভূয়া দলিল দেখায়। কিন্তু মনিচন্দ্র মন্ডল জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৭৫ সালে। ১৯৮০-১৯৮৭ সনে মনিমন্ডল নাবালক ছিলেন। ওই পরিস্থিতিতে মনিচন্দ্র মন্ডোলের পরিবার নোয়খালী চলে যায় এবং তার বাড়িঘর পুকুর জমিসহ সকল সম্পত্তি তার নিকট আতœীয় নরোত্তমকে পাওয়ার অব এ্যাটোর্নীর মাধ্যম দিয়ে দেন। তার পর ওই জমি নিয়ে মামলার ফয়সার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনের কাছে গেলেও তিনি কোন প্রতিকার করেননি এবং বিবাদীর পক্ষে অবস্থান নেন। । অথচ গত ২০১৬ সনের ১৭ জানুয়ারী লালমোহন সিনিয়র সহকারী জজ আতালত ওই জমির উপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য আদেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই আদেশ না মেনে বিরোধীয় জমি ইউপি চেয়ারম্যান নিরাপত্তার কথা বলে তার দখলে নিয়ে যান। এই পরিস্থিতিতে আকবর গ্রæপ গত ২৮ মে ২০১৯ তারিখে নরোত্তমের ঘর বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে নারীসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর করে ফসল লুট করে। এঅবস্থায় ওই জমি উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংখ্যালঘু পরিবারটি। অপরদিকে ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, কালমা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের চরল²ীগ্রামের মনি চন্দ্র মন্ডল ও আকবর হোসেন গংদের মধ্যে জমির বিরোধে মামলা চলমান আছে । আকবর গ্রæপ জমির দখল নিতে গেলে সংঘাতও হয়। তাই মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমি ইউনিয়ন পরিষদের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মামলা শেষ হলে যে পক্ষ রায় পাবে তাদের কাছে জমি ফেরত দেয়া হবে।
এদিকে আকবর হোসন সাংবাদিকদের কাছে হামলার বিষয় অস্বীকার করে ওই জমি তাদের ক্রয়কৃত বলে দাবি করেন।