অনলাইন ডেস্ক ॥ বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও বুধবার মিন্নির রিমান্ড মঞ্জুরের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছে মিন্নি। ইতোমধ্যেই মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও মিন্নি যুক্ত ছিলেন।

মঙ্গল এবং বুধবার মিন্নি জিঙ্গাসাবাদে স্বীকার করেছেন, ২৫ জুন মিন্নি নয়ন বন্ডদের বাড়িতে যায়। রিফাতকে কিভাবে  হত্যা করা যায় তার পরিকল্পনাও করেন। হত্যার ঘটনায় মূল নায়ক নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে মিন্নি পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটান। শুরু থেকে এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের সঙ্গেও মিন্নি সম্পৃক্ত ছিলেন। হত্যাকান্ড ঘটাতে যা যা প্রয়োজন, খুনিদের সব মিটিংয়ে অংশগ্রহণের বিস্তারিতও মিন্নি বলেছেন।’

তদন্ত কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, মিন্নি আগে গোপনে নয়ন বন্ডকে বিয়ে করেছিলেন। ওই বিয়ে গোপন করে রিফাত শরীফকে বিয়ে করেন তিনি। বিষয়টি মিন্নি রিফাত বা তার পরিবারের কাউকে জানায়নি। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও মিন্নি গোপনে নয়নের বাসায় যাওয়া-আসা করতেন। নিয়মিত নয়নের সঙ্গে যোগাযোগও করতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে রিফাত ও নয়নবন্ডের মধ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা তৈরি হয়। এরপরই রিফাতকে কিভাবে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় তার পরিকল্পনা করে নয়নবন্ড। যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন মিন্নি। কেননা মিন্নি বিয়ে করলেও রিফাতকে তেমন ভালবাসতেন না। যা মিন্নির ফোনালাপেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আর বরগুনার পুলিশ সুপার বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মাদকের কারণে হত্যাকান্ড ঘটেনি, ঘটেছে ব্যক্তিগত জিঘাংসা থেকে। মিন্নি নয়নবন্ডকে বিয়ের কথা গোপন করে রিফাত শরীফকে বিয়ে করেন। এরপরই মূলত তাদের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়। রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়নবন্ড। গোপনে নয়নের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনায় অংশ গ্রহণ করেন মিন্নি। তাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সেক্ষেত্রে আরও নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন মিন্নি রিফাত শরীফকে রক্ষার যে চেষ্টা করেন, সেখানে সে নয়নকে জাপটে ধরলেও তাকে (মিন্নি) কোনো আঘাত করেনি। এটি ছিল লোক দেখানো যা নয়নবন্ডের সঙ্গে পরিকল্পনা করে করেছিলেন মিন্নি। মিন্নির মুঠোফোনের কথপোকথনের এ বিষয়টি পরিস্কার উঠে এসেছে।’

উল্লেখ্য, ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকেল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃত্যু হয়। সূত্র:রাইজিংবিডি