মনপুরা প্রতিনিধি ।। ভোলার মনপুরা উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরে জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত বিস্কুট বিক্রি করার সময় রবিবার রাতে স্থানীয়দের হাতে আটক হয় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হারুন কমাল। পরে ইে রাতেই ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুজা উদ্দিন সুজন বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালে সোমবার বিষয়টি তদন্ত শুরু করেন মনপুরা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান। এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিভাকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী আলাউদ্দিন ও রুহুল আমিন জানান, রবিবার ৮ টার দিকে স্কুলের অফিস কক্ষ থেকে ৩ কার্টুন বিস্কুট বিক্রি উদ্যেশে বের হন। ওই সময় রাস্তায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পরছে সে বিস্কুট রেখে পালিয়ে যান। পরে স্কুলের সভাপতি সুজা উদ্দিন সুজনকে জানানলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে বিস্কুট উদ্ধার করে।

ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, গত ১০ দিনে এক দিনেও কেউ বিস্কুট পাননি। এছাড়াও আগে মাঝে মাঝে বিস্কুল পেয়েছেন।

ওই স্কুলের অর্ধশতাধিক অভিভাবক তদন্ত কর্মকর্তার সামনে মৌখিক জানান, স্কুল ৪ টা পর্যন্ত চললেও একঘন্টা ক্লাস হয় না। কোনদিন একঘন্টা হয়। এছাড়াও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আরোও জানান, প্রধান শিক্ষক প্রতিনিয়ত সরকারি বরাদ্ধকৃত বিস্কুট বিক্রি করে। এই ঘটনা এলাকার সবাই জানে।

ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন কামাল বলেন, এই ঘটনার সাথে তিনি জড়িত নন বলেন জানান। এছাড়াও তিনি বিস্কুট চরি হয়েছে বলে দাবী করেন।

ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুজা উদ্দিন সুজন মেম্বার জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিভিন্ন অভিযোগ করে আসছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযোগ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিকমত বিস্কুট পায় না। তিনি আরো জানান, রবিবার রাতে বিস্কুট বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে প্রধান শিক্ষক। পরে আমি শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

মনপুরা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিস্কুট বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে স্কুলের ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর দায়ে প্রধান শিক্ষক হারুন কামালকে এক বছর কারাদন্ড দেন তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ অহিদুল ইসলাম। পরে বাদী পক্ষের সাথে রফাদফা করে উচ্চ আদালতে খালাস পান তিনি।
জেএসবি/২৯ জুলাই