বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলা-ঢাকা নৌ পথে তিন ঘন্টায় গন্তব্যে পৌঁছতে চালু হচ্ছে গ্রিণলাইন ( দ্রæতগামী লঞ্চ সার্ভিস) । একই সঙ্গে চালু হচ্ছে ভোলা-লক্ষীপুর রুটে ২৪ ঘন্টা দিন রাত ফেরিসার্ভিস। এক থেকে দেড় ঘন্টায় পৌঁছবে ওই ফেরি। নতুন মতিরহাট ঘাটে পন্টুন স্থাপন ও ফেরির গ্যাংওয়ে স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। খুব শীগ্রহী আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। নৌ-মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক এ তথ্য জানান। এ দিকে ভোলা-ঢাকা রুটে ১২ ঘন্টার লঞ্চ জার্নি কমে ৩ ঘন্টা ও সাড়ে ৩ ঘন্টার ফেরি পথ এক থেকে দেড় ঘন্টা হওয়ার খবরকে স্বাগত জানান চেম্বার অব কমার্সের নেতৃত্বেবৃন্দসহ সকল পেশার প্রতিনিধিরা। অভিন্দন জানিয়েছেন ভোলা স্বার্থ রক্ষা উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক দেড় মাস আগে নতুন এসব প্রস্তাব পাঠালে, বুধবার নৌ-মন্ত্রনালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সচিব আব্দুস সামাদ। বৈঠকের বরাদ দিয়ে জেলা প্রশাসক জানান, ভোলার ইলিশা ঘাট থেকে ঢাকা সদর ঘাট রুটে গ্রিণ লাইন চালুর আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। গেল বছর নৌমন্ত্রীর ভোলা সফরকালে ভোলা স্বার্থ রক্ষা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সম্পাদক সাংবাদিক অমিতাভ অপুসহ ওই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গ্রিণলাইন ( স্পিডি লঞ্চ) চালুর প্রস্তাবসহ গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ভোলার ইলিশা ও ল²ীপুর জেলার মজুচৌধুরী ঘাটের পরিবর্তে ভোলার ইলিশা-ল²ীপুর জেলার মতিরহাট রুটে ফেরি সার্ভিস চালুরও প্রস্তাব করেন ওই সংগঠনের নেতারা। এ বছরের প্রথম দিকে নৌ-মন্ত্রনালয়ের একটি টিম বিআইডবিøউটিএ’র কর্মকর্তাদের নিয়ে রুটগুলো জরিপ করেন। ওই টিম সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দেন। জেলা প্রশাসকের তরফ থেকেও সুবিধাগুলো উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয়া হয়। গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনেও এমন প্রস্তাব তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক। ভোলার নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান জানান, ভোলার খেয়াঘাট ( নদীবন্দর)-ঢাকা রুটের দূরত্ব ১৯৫ কিলোমিটার। আর ভোলার ইলিশা-ঢাকা নৌপথের দূরুত্ব ১৫৫ কিলোমিটার । ফলে ইলিশা -ঢাকা নৌ পথে গ্রিণলাইন চালু হলে সাড়ে৩ ঘন্টা থেকে ৪ ঘন্টায় গন্তব্যে পৌঁছা যাবে। এ ছাড়া ইলিশাঘাটকে গুরুত্ব দিয়ে ওই ঘাটে আধুনিক মানের টার্মিনাল স্থাপিত হচ্ছে বলেও বিআইডবিøউটিএ’র কর্মকর্তারা জানান। এ ক্ষেত্রে ভোলা থেকে সকালে গ্রিণলাইন সার্ভিস রাখারও প্রস্তাব করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া ফেরি আন্দোলন ও স্বার্থ রক্ষা উন্নয়ন কমিটির টানা আন্দোলনে অনেক প্রতিক’লতা কাটিয়ে ২০০৮ সালে চালু হয় ভোলা-ল²ীপুর মজুচৌধুরী ঘাট রুটে ফেরি সার্ভিস। ২০ নোটিক্যাল মাইল যেতে ফেরির সময় লাগে ৩ /৪ ঘন্টা । ওই সময় থেকেই ভোলা স্বার্থ রক্ষা উন্নয়ন কমিটি বিকল্প দুটি প্রস্তাব দাবি অকারো জানান। একটি হচ্ছে মজুচৌধুরী ঘাটের দুই কিলোমিটার আগে রহমতখালী খালের মুখে গাট স্থাপন করলে ৩০ মিনিট সময় বেচে যায়। অপর প্রস্তাব ছিল মতিরহাটে ঘাট স্থাপন। ল²ীপুর রহমতখালি খালে পানি কম থাকায় ফেরি চলাচল করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকরে কাছ থেকে উত্থাপিত মতিরহাট প্রস্তাবটি বুধবারের বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়। এতে এক থেকে দেড় ঘন্টায় ফেরির জন্য সময় লাগবে। একই সঙ্গে ২৪ ঘন্টা ফেরি চলাচল করতে পারবে। এদিনে বুধবার মন্ত্রনালয়ের বৈঠকের পর এ রুটে আধুনিক মানের ফেরি দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয় বলেও জেলা প্রশাসক জানান।