হাসনাইন আহমেদ মুন্না || জেলায় ৬০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। সদর উপজেলা, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন ও তজুমোদ্দিন উপজেলায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৫৭ জন গ্রাহক শতভাগ বিদ্যূতায়নের সুফল ভোগ করছে। এর মধ্যে দৌলতখান ও তজুমোদ্দিন উপজেলার শতভাগ বিদ্যূতায়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ উদ্বোধন করেছেন। অন্য দুটি উপজেলাও উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এছাড়া আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে চরফ্যাসন ও লালমোহন উপজেলায় শতভাগ বিদ্যূতায়ন নিশ্চিত করা হবে। আর ২০২০ সালের মধ্যে পুরো জেলায় প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। আর এতে করে আনন্দ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র সহকারী জেরারেল ম্যানেজার (সদস্য সেবা) মিজানুর রহমান জানান, শতভাগ বিদ্যূৎ সুবিধা ভোগ করা ৪টি উপজেলার মধ্যে দৌলতখান উপজেলায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭২৪ কিলোমিটার বিদ্যূৎ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। যার সুফল ভোগ করছে উপজেলার ৩৮ হাজার ৪৪৯ জন গ্রাহক। উপজেলা সদরে ২০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩৯৩ কিলোমিটার লাইন স্থাপনের মাধ্যমে ৬৪ হাজার ৩৭ টি মিটার স্থাপন হয়েছে। সদরে চলতি বছরের জুলাই মাসে শতভাগ বিদ্যূতায়ন সম্পন্ন হয়েছে।
মিজানুর রহমান আরো জানান, একইভাবে তজুমোদ্দিন উপজেলায় ২৩ হাজার ৩৯ জন গ্রাহকের মাঝে ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৯৬ কিলোমিটার বিদ্যূৎ লাইন স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বোরহানউদ্দিনে ১৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১’শ ২২ কিলোমিটার লাইন স্থাপন করা হয়েছে। যার সুফল পাচ্ছে উপজেলার ৩৯ হাজার ৭৩২টি পরিবার।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আযাদ বলেন, জেলায় গ্রীড লাইনের আওতায় শতভাগ বিদ্যূতায়নের কার্যক্রম এইতোমধ্যে ৯২ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে শতভাগ বিদ্যূতায়ন সম্পন্ন ৪টি উপজেলায় মানুষের জীবন মানে পরিবর্তন এসেছে। প্রত্যন্ত এলাকার অধিকাংশ ঘরে আজ দি্যূতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে। ফলে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য কমে আসছে। গ্রামে বসেই মানুষ বিদূতের সাহাজ্যে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করছে।
তিনি আরো বলেন, গ্রীড লাইনের বাইরে জেলায় জনবসতিপূর্ণ ৮টি বিচ্ছিন্ন চর সনাক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে সাবমেরিন ক্যবলের মাধ্যমে এসব চরে বিদ্যুতায়ন সম্মন্ন করা হবে। ইতোমধ্যে চর কুকরী-মুকরীতে বিদ্যূতায়ন কাজের টেন্ডার পক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলোতে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
পল্লী বিদ্যূৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, জেলার শতভাগ বিদ্যূৎ সুবিধা ভোগ করা ৪টি উপজেলা ছাড়াও লালমোহন ও চরফ্যসন উপজেলায় শতভাগ বিদ্যূতায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে লালমোহনে ১৬’শ ২৪ কিলোমিটার লাইন প্রয়োজন। স্থাপন হয়েছে ১৩’শ ৫৬ কিলোমিটার। আর ব্যয় হয়েছে ১৭৫ কোটি টাকা। একইসাথে চরফ্যাসনে ২৬’শ ৬৭ কিলোমিটার লাইনের বিপরীতে ১৯’শ ৫৮ কিলোমিটার লাইন স্থাপন হয়েছে। এই উপজেলায় শতভাগ বিদুতের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।
সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১৬ নং দক্ষিন চর ভেদুরিয়া এম হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই মনে করেন, সরকারের প্রত্যন্ত এলাকায় ব্যাপক বিদ্যূতায়নের ফলে লেখা-পড়ার মান অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় কেরোসিন কিনে কুপি বা হ্যারিকেন জ্বালিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখা করতে হতো। যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হতোনা।
চর-চন্দ্র প্রসাদ গ্রামের শরিফ খা বাজারের ক্ষুদ্র বিক্রেতা ফয়েজ হোসেন ও বারেক আলী বলেন, বিগত দিনে তাদের এখানে বিদ্যূৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর পরই বাজারের বেঁচা-কেনা শেষ হয়ে যেত। গত কয়েক বছরে এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন আসাতে অনেক রাত পর্যন্ত হাটের কার্যক্রম চলে। ফলে তাদের আয় রোজগারও বৃদ্ধি পেয়েছে।