হাসনাইন আহমেদ মুন্না : ভোলার ৭ উপজেলায় চলতি বছরের গত ৮ মাসে ৫৫ হাজারেরও বেশি মানুষ স্যাটেলাইট ক্লিনিক থেকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের অধিনে ১৮’শ ৩১টি স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে গর্ভকালীন সেবা, প্রসবোত্তর সেবা, পরিবার পরিকল্পনা সেবাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদাণ করা হয়েছে। এতে করে পল্লী এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতাসহ চিকিৎসা সেবা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আর ঘরের কাছে এমন সেবা পেয়ে খুশি গ্রামীণ মানুষ।
পবিার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্র জানায়, এসব সেবার মধ্যে গর্ভকালীন সেবা পেয়েছে ৬ হাজার ৬১১ জন নারী, প্রসবোত্তর সেবা দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৬৩৪ জন, শিশু রয়েছে ৭ হাজার ৯৪২জন, খাবার বড়ি পেয়েছে ১ হাজার ৫৮১ জন, কনডম পেয়েছে ৩৫৮ জন, ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ জন, আইইউডি পেয়েছে ৬২ জন, কিশোর-কিশোরী প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা পেয়েছে ৮ হাজার ৫৩ জন ও সাধারণ রোগী সেবা দেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ৯৯৫ জন।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদুল হক আযাদ বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে মাসে ৪টি করে স্যাটেলাইট ক্লিনিকের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের বৃহৎ বাড়িগুলোতে অর্থাৎ যেসকল বাড়ি স্থানীয়ভাবে সবাই চেনেন এমন বাড়িতে সপ্তাহে ১ দিন এর কার্যক্রম চলে। এর মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে এই চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, এখানে আগত রোগীদের সাধারণ চিকিৎসা ও ঔষুধ সেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি ইত্যাদী নানান ধরনের সেবা দেওয়া হয়। একইসাথে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করে তোলা হচ্ছে। ফলে মানুষের মধ্যে এই কার্যক্রমের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাঠ পর্যায়ের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকা আফিয়া আক্তার বলেন, যেই বাড়িতে ক্লিনিকের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় সেখানে আসার জন্য আগের দিন আমাদের কর্মীরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রচারণা চালায়। এখানে বলা যায় সব ধরনের রোগীই আসেন। সাধারণ রোগী সেবার পাশাপাশি মা, শিশু ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতন করতে স্যাটেলাইট ক্লিনিকের গুরুত্ব অনেক বেশি বলে মনে করেন তিনি।
সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের কালুপুর এলাকার জলিল সিকদারের বাড়িতে স্যাটেলাইট ক্লিনিকে সেবা নিতে এসেছেন রহিমা বেগম ও সাহিদা বানু। তারা জানান, রহিমা ৫ মাসের ও সাহিদা ৭ মাসের গর্ভবতী। তাই তারা এসেছেন গর্ভকালীন সেবা নেয়ার জন্য। তারা দরিদ্র বলে সদরে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ সম্ভব হয়না। কাছাকাছি হওয়ায় স্যাটেলাইট ক্লিনিকই তাদের একমাত্র ভরশা বলেন তারা।