বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে ও ২টির কাজ চলমান রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জেলা এলজিইডি এসব কাজ বাস্তবায়ন করছে। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্প’র মাধ্যম ৪ তলা বিশিষ্ট এসব ভবনে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা আলাদা অফিস কক্ষ, হলরুম ও বাণিজ্যিক ফ্লোর রয়েছে।
জেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে তজুমোদ্দিন উপজেলায় ২০১৪ সালে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১টি কমপ্লেক্স নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। দৌলতখানে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকায় ভবন হয়েছে ২০১৫ সালে। একইবছর ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে বোরহানউদ্দিনে ১টির নির্মাণ সমাপ্ত হয়েছে। ২০১৮ সালে লালমোহনে আরো ১টি কমপ্লেক্স’র নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে।
এছাড়া সদর উপজেলায় ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১টি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স’র নির্মাণ কাজ চলছে। একইসাথে মনপুরায় ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে আরো একটি ভবনের কাজ চলছে। এসব কাজের ৩৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে এ দুটি কমপ্লেক্স’র নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।
এদিকে বিগত দিনে জেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য স্থায়ী কোন কমপ্লেক্স বা কার্যালয় ছিলোনা। ফলে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যা পোহাতে হতো। বর্তমান মহাজোট সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন জেলার মুক্তিযোদ্ধারা।
এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভোলা প্রেসক্লাব সভাপতি এম হাবিবুর রহমান মনে করেন, এসব কমপ্লেক্স মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। পূর্বের সরকারগুলোর সময় জেলায় মুক্তিযোদ্ধারা একেবারেই অবহেলিত ছিলো। বর্তমান সরকার তাদের বিভিন্ন সুজোগ সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে অত্যাধুনিক এসব ভবনে বাণিজ্যিক ফ্লোর থাকায় তাদের আয়ের পথ সৃষ্টি হয়েছে। যা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনছে। তাই আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রত্যেকটি কমপ্লেক্স’র নিচতলা ও দ্বোতালা বাণিজ্যিকভাবে ব্যাবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থাত দোকান বা অন্য কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তারা ভাড়া দিতে পাড়বে। এখান থেকে যে আয় হবে তা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। তৃতীয় তলায় তারা অফিসের কার্যক্রম চালাবে এবং চতুর্থ তলায় সভা-সমাবেশ করার জন্য হলরুম করা হয়েছে।
আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্বত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই দেশ পেয়েছি। বিগত দিনে তাদের স্থায়ীভাবে বসার কোন স্থান ছিলোনা। তাই তরা যেন একস্থানে বসে তাদের সুবিধা ও অসুধিাগুলো আলোচনা করতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই সরকার এসব কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছে। সর্বোপরি তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যই এসব কমপ্লেক্স বলে জানান জেলার এলজিইডি’র প্রধান এই কর্মকর্তা।