হাসনাইন আহমেদ মুন্না ।। আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে জেলায় চাহিদার চেয়ে বেশি পশুর মজুদ রয়েছে। এবছর কোরবানির জন্য সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারন করা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার পশু। আর মজুদ রয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৭৮ হাজার ৮৩৮, ছাগল ২৮ হাজার ৩৮৬, মহিষ ১ হাজার ৫৫৬ ও ভেড়া রয়েছে ১ হাজার ৬৩৭টি। যা গত বছরের চাহিদার তুলনায় ৫ হাজার বেশি। জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাণীসম্পদ দপ্তর সূত্র আরও জানায়, জেলার মোট পশুর মজুদের মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছে ২৪ হাজার ৬৮১ টি। দৌলতখানে ১২ হাজার ৪১৭। বোরহানউদ্দিনে ২০ হাজার ৯৯৫। তজুমদ্দিনে ৯ হাজার ২৩৪। লালমোহনে ১৪ হাজার ৫৯৭। চরফ্যাসনে ১৯ হাজার ৮৬৪ ও মনপুরায় ৮ হাজার ৬৩৯টি। জেলায় ৫ হাজার ৬৬৩ টি খামার ও পারিবারিকভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে এসব পশু মোটা-তাজা করা হচ্ছে।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান, গত কোরবানিতে জেলায় প্রায় ১ লাখ ২ জার পশু জবেহ করা হয়েছে। এবছর পশুর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৫ হাজার হয়েছে। কোন ধরনের ক্ষতিকর উপাদান ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে পারিবারিকভাবে ও খামারগুলোতে পশু হৃষ্ট-পুষ্ট করা হচ্ছে। সবুজ ঘাস, দানাদার খাদ্য, ভাত, খরের সাথে ইউরিয়াসহ সুষম খাবার খায়ানো হচ্ছে এসব পশুদের।
এদিকে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে যাতে অসুস্থ্য বা রুগ্ন গরু না তোলা হয় সে জন্য জেলার ৭ উপজেলায় ১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব মেডিকেল টিমে ৪জন থেকে ৭জন পর্যন্ত সদস্য রয়েছে। এসব টিম পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাটগুলোতে কাজ করা শুরু করেছে। এছাড়া কোরবানি দাতাদের করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে হাটগুলোতে।
প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আরো জানান, নিষিদ্ধ ক্ষতিকারক স্ট্রয়েট জাতীয় ঔষুধের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন দোকান ও খামারগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোন দোকানে এসব ঔষুধ পাওয়া যায়নি। এছাড়া খামারেও পশুর শরীরের ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। সাধারণত সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব ক্ষতিকর উপাদান মেশানো হয়। তারপরেও আমরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছি এসবের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পশু জবেহের জন্য জেলায় ২৫০ জন কষাইকে বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও পশুর চামরা যাতে নষ্ট না হয় ইত্যাদী বিষয়ে কষাইদের দক্ষ করে তোলা হয়েছে। এছাড়া ১৮ বছরের নিচে যাতে কেউ পশু জবেহ না করে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে।
জেএস/০৪ জুলাই