অমিতাভ অপু : ভোলায় ইলিশের ভরা প্রজনন সময়ে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায়কালীন সময়ে ঋণগ্রস্ত জেলেদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তির টাকা আদায় না করার জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ( এনজিও) গুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। বুধবার বিকালে এই মর্মে এনজিও সংস্থাকে চিঠি দেয়া হয়। বুধবার দুপুরে মাছ ধরা থেকে জেলেরা বিরত আছে কিনা তা সরেজমিনে দেখতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক মেঘনা নদীর তুলাতুলি পয়েন্ট থেকে অভিযান শুরু করেন। মেঘনা নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার চষে বেড়ানোর সময় বিভিন্ন মাছঘাট এলাকায় গিয়ে জেলেদের নিয়ে সমাবেশ করেন। ওই সময় ঋণগ্রস্ত জেলেরা কিস্তির বিষয় তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক ২২ দিন কিস্তির টাকা পরিশোধ করা লাগবে না বলে ঘোষনা দেন। একই সঙ্গে সুবিধা বঞ্ছিত বেদে জেলেদের নদীতে মাছ ধরতে না নামার শর্তে ওই পরিবারগুলোকে চাল দেয়ার কথাও জানান।
ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে, ইলিশের ডিম ছাড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক এমন বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান। এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ। এতদিন সরকারের সুবিধা না পাওয়ায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মানতে নারাজ ছিলেন বেদে জেলেরা। ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বুধবার দুপুরে মেঘনা নদীতে অভিযানে নেমে এমন বেদে জেলেদের কথা শুনে অবাক হন। সমাবেশ করে করে এদের কথা শোনেন। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নেন বিশেষ উদ্যোগে প্রতি পরিবারকে চাল দিবেন। হ্যান্ড মাইকে ঘোষনা দিলেন। বেদে জেলেদের অভিযোগ , নির্দিষ্ট ঠিকানা না থাকায় নেই জাতীয় পরিচয়পত্র । নেই জন্ম নিবন্ধন সনদও। ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতাসহ সরকারের এমন সকল সুবিধা থেকে এরা বঞ্চিত হচ্ছেন। নৌকায় এদের জীবন। নৌকায় বসবাস। মাছ ধরা এদের বর্তমান পেশা। এদের পরিচয় বাইদ্যা (বেদে জেলে)। নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরেন। তা বিক্রি করেই সংসার চলে। সরকারের সুবিধা থেকে এরা বঞ্চিত থাকেন সব সময়।
মৎস্য কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম জানান, দেশের ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন। ভোলা থেকে গত বছর উৎপাদিত হয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর দেড়লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টন। ভোলাতে উৎপাদনের হার হবে দেশের উৎপাদনের প্রায় ৪০ ভাগ। এমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইলিশের ভরা প্রজনন সময় নিশ্চিত করতে হবে। সাগর থেকে মিঠা পানির এ অঞ্চলে উঠে আসা ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় যাতে ব্যহত না হয় ওই পরিবেশ রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহŸান জানান জেলা প্রশাসক। এদিকে ভোলার তুলাতুলি ¯øুইস গেইট, ইলিশা চড়ারমাথা, ইলিশা জোড়খাল এলাকায় বেঁদে জেলেদের ডেকে সমাবেশ করেন জেলা প্রশাসক। নদী পাড়ে বেদে জেলে পল্লী গড়ে দেয়ারও দাবি জানান বেদে জেলেরা। তুলাতুলি ¯øইজ গেইট এলাকার বেঁদে জেলে কহিনুর বেগম জানান, তাদের সরদার হচ্ছেন সানু সরদার, কাঞ্চন সরদার। ৩০ পরিবার তারা ওই এলাকায় মাছ ধরেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ স্থানীয় চৌকিদারের সহায়তায় গোপনে জন্ম নিবন্ধন সনদ করিয়েছেন। কিন্ত তার পরও সরকারি সুবিধা পান না বলে অভিযোগ দেন। কহিনুর বেগম জেলা প্রশাসকের ঘোষনাকে সাধুবাদ জানিয়ে বেদে জেলে নৌকা দেখে ওই সব পরিবারেকে ওই চাল দেয়ার দাবি জানান। একই কথা জানান বেঁদে রোসনা বেগম, চারুজান বেগম, মাহেনুর বেগম, রানুবিবি। এদিকে জেলা প্রশাসকের অভিযান টিমে ছিলেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামাল হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মোঃ কাওছার হোসেন , উপজেলা সিনিয়র সৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান । এ ছাড়া পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরাও ওই অভিযানে ছিলেন।