হাসিব রহমান ॥ ভোলায় কৃষকের কিশোরী কন্যা ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর আর ঈদ করা হলো না। ঈদের আগের রাতে মেহেদী দিয়ে হাত রাঙাতে গিয়ে হাত পা বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষনের শিকার হয়ে রক্তে রঞ্জিত হলো তার শরীর। জীবন মৃত্যুর মাঝে তীব্র যন্ত্রনায় ছটফট করছে অসহায় ওই কিশোরী। ধর্ষীতাকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও প্রচুর রক্তক্ষরন হওয়ায় বর্তমানে তার অবস্থা আশংকা জনক। মর্মান্তিক বর্বর এই ঘটনাটি ঘটে ঈদুল আযহার আগের রবিবার রাত ৮ টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার উপজেলার চর সামাইয়া ইউনিয়নের চর সিফলী গ্রামে। এঘটনায় পুলিশ ২ ধর্ষককে আটক করতে না পারলেও তাদের সহযোগী একজনকে আটক করেছে।
ধর্ষিতার কৃষক পিতা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদে তার আদরের দুই মেয়ের জন্য বাজার থেকে কসমেটিকসহ মেদেহী কিনে দেয়। রবিবার সন্ধ্যার দিকে তাদের বাবা গরু বিক্রির টাকা আনতে ভোলা শহরে যান। বাবা শহরে চলে যাওয়ার পর দুই বোন রাত ৮টার দিকে পাশ্ববর্তী আতœীয় মাহাফুজের স্ত্রী লিজার কাছে হাতে মেদেহী দিয়ে সাজতে যায়। প্রতি ঈদেই তার কাছে সাজতে যায়। ওই সময় পূর্বে থেকে আপেক্ষমান মাহাফুজের ঘরের ভাড়াটিয়া ভোলা আদালতের মোহরি আল আমিন ওই ছাত্রী কিশোরীকে ডেকে তার ঘরে নিয়ে যায়। মাহাফুজের ঘরে আলামিন প্রায় ৩ বছর তাদের বাড়ির পাশে বসবাস করতো। এ সময় আলমিনের স্ত্রী ঘরে ছিলো না। এই সুযোগে হঠাৎ করে ওই কিশোরীকে আলামিন ও তার সহযোগী বখাটে যুবক মঞ্জুর আলম ঝাপটে ধরে হাত পা ও মুখে কাপর বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। ধর্ষিতা জানান,বাঁচার জন্য বহু আকুতি করেও সে পাষন্ড ওই ২ নর পশুর কাছ থেকে রক্ষা পায়নি। কিন্তু তারা পাষবিক ভাবে নির্যাতন চায়। পরে কিশোরীর ডাকচিৎকারে স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা তাকে তাকে উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ধর্ষিতার বাবা মা কান্নায় ভাষা হারিয়ে ফেলেন। তারা ওই ধর্ষণকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের দাবী জানান।
চর সামাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মাতাব্বর জানান,তিনি খবর পেয়ে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভোলা মডেল থানায় নিয়ে যান। তার পর দ্রুত ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়।
এদিকে ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন হাসপাতালের কর্তবরত চিকিৎসাক ও নার্স দেবী মল্লিক জানান , ধর্ষিতার ইউট্রাসের নিচে ৫/৬টি সিলাই লাগবে। কিন্তু গাইনী ডাক্তার ও অজ্ঞান ডাক্তার না থাকায় সিলাই দেয়া যাবে না। প্রচুর রক্ত ক্ষরন হয়েছে। জরুরী সিলাই ও রক্ত দেয়া প্রয়োজন।
ভোলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তাকে ধর্ষন করা হয়েছে। প্রচুর রক্ত ক্ষণন হচ্ছে। ধর্ষনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ভোলা সিভিল সার্জন ডা: রথীন্দ্রনাথ মজুমদার জানান,তাকে গুরুতর অবস্থায় রক্ত দেয়ার জন্য চেষ্টা চলছে।
এদিকে ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মো: কায়সার জানিয়েছেন, তারা খবর পেয়ে রাতেই মূল ২ আসামীর সহযোগঅ জামাল নামে এক ব্যাক্তিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ২ ধর্ষককে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালছে। তা ছাড়াও এ ঘটনায় ভোলা থানায় আজ একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।