হাসিব রহমান : হাসান মোল্লা। মাছ ধরেই চলে তার সংসার। তিনি সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। তার আয় দিয়েই চলে তার সংসার। অসচ্ছলতার মধ্যেও তার তিন ছেলেকে পড়ালেখা শিখিয়ে শিক্ষিত করার ছিলো তার স্¦প্ন। ত ছেলের মধ্যে বড় ছেলে জুয়েল (১৭) পড়ে দশম শ্রেণীতে। মেঝ ছেলে সোহেল (১০) পড়ে মাদ্রাসায়। ছোট ছেলে ইমনের বয়স মাত্র ৩ বছর। গত ৩০ অক্টোবর মা ইলিশ রক্ষার অভিযান শেষে হাসান মোল্লা সাগরে মাছ শিকারে যায়। গত শনিবার মাছ ধরে চাঁদপুর বিক্রি করে পর দিন শনিবার চরফ্যাসনে ফিরার পথে ভোলার ইলিশা মেঘনা নদী নিহত হয়। তার লাশ মঙ্গলবার চরফ্যাসনের আবদুল্লাহপুর পৌছলে এক হৃদয় বিদারক অবস্থা সৃষ্টি হয়। তার স্ত্রী কল্পনা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। হাসান মোল্লার বয়স্ক পিতা কয়সার মাঝিও পুত্রের শোকে প্রায় পাগলের মতো বিলাপ দিতে থাকে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভোলার ইলিশায় উত্তাল মেঘনায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় ৯ জেলের মৃতদেহ উদ্ধারের পর জেলা পরিবার গুলোতে হাসান মোল্লার পরিবারের মতোই চলছে শোকের মাতম। মঙ্গলবার ভোরে ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে তাদের বাড়িতে গিয়ে জেলেদের মরদেহ পৌছলে স্বজনহারাদের মধ্যে এক হৃদয় বিদারক অবস্থা সৃষ্টি হয়। স্বজন হারিয়ে অনেকই বার বার মূর্ছা যেতে থাকে। সকাল ৮ টার পর থেকে পৃথক পৃথক স্থানে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে। ট্রলার ডুবির ঘটনায় ১০ মৃতদেহসহ ২০ জন উদ্ধার হলেও এখনো ৪ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

স্থানীয় ও উদ্ধার পাওয়া জেলেরা জানান,গত রবিবার সকালে ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার আবদুল্লাহপুরের তোফায়েল মাঝির এমভি আম্মজান ট্রলার ২৪ জেলেসহ একটি ট্রলার চাঁদপুর থেকে মাছ বিক্রি করে ভোলার চরফ্যাসনে ফিরছিলো। কিন্তু রবিবার সকালে ভোলা ইলিশা রাজাপুর এলাকার উত্তাল মেঘনা নদীতে ওই ট্রলার উল্টে ডুবে যায়। ওই সময় ১০ জেলে জীবিত উদ্ধার হয় এবং ওই দিন রাতেই কোষ্টগার্ড ট্রলারসহ ১ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এর পর সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের মেঘনার বাহাদুরপুর রোকনদি এলাকা থেকে পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথ চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে। রাত ১১ টায় নিহতদের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ নিয়ে গত ২ দিনে ১০ জন মৃতসহ ২০ জন জেলেকে উদ্ধার করা হলো ।
এদিকে উদ্ধার হওয়া জেলেদের মৃতদেহ মঙ্গলবার ভোরে তাদের বাড়ি পৌছলে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠে। পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তিদের মৃত্যুতে দিশেহারা ১০ জনের মধ্যে ৮ পরিবার। স্ত্রী, সন্তানদের দুমুঠো ভাতের যোগান দেয়ার মতও অবস্থা নেই এই সব পরিবারের। সরকারের কাছে পুনর্বাসনেরও দাবি জানান তারা। পরে তাদের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। উদ্ধারকৃতরা মোট ১০ জেলেরা হচ্ছে, চরফ্যাসনের আবু বকর পুরের মৃত নুরুল হকের ছেলে কামাল দালাল(৩৫), উত্তর শিবার মজিবল হক মুন্সির ছেলে আব্বাস মুন্সি (৪৫), নুরাবাদের কাদের মোল্লার ছেলে হাসান মোল্লা (৩৮), উত্তর শিবার মৃত জামাল বিশ্বাসের ছেলে রফিক বিশ্বাস (৪৫),নুরাবাদের কাদের ব্যাপারীর ছেলে নুরনবী ব্যাপারী (৩০),দুলার হাটের সলেমান মাতব্বরের ছেলে মফিজ মাতাব্বর (৩৫),ফরিদাবাদের ইয়াসিন পাটোয়ারির ছেলে নজরুল ইসলাম(৩৫),ফরিদাবাদের মোসলেউদ্দিন মাঝির ছেলে কবির হোসেন(৪০),আবদুল্লাহপুরের ইসমাইল খানের ছেলে মো: বিল্লাহ (৩২),খোরশেদ (৪৫)।

তবে এখনো ৪ জেলের লাশ নিখোঁজ রয়েছে। তারা হলো মোঃ জসিম উদ্দিন( ৩৫), নীল কমল ইউনিয়নের মোঃ নাসিম ( ৪২), ফরিদা বাদের হেজু মাঝি ( ৩০), আহম্মদপুরের নাসিম ( ৪০) ।