আমিনুল ইসলাম, চরফ্যাশন :  ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা চত্তরে অবস্থিত পাবলিক লাইব্রেরীটির প্রায় ১ যুগ ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ১৯৭৭ইং সনে স্থাপিত জানাকির্ণ লাইব্রেরীটিতে বই ও আসবাবপত্র গুলো চরম অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে দেখতে আসেন লাইব্রেরীয়ান মোঃ ফরহাদ।
গতকাল শনিবার সরজমিনে বন্ধ লাইব্রেরিটি গেলে দেখা যায, ওয়ালে খোদাই করে লেখা রয়েছে ১৯৭৭ সনে তৎকালিন মহাকুমার প্রশাসক এস ইউএম জহিরুল ইসলাম থিত্তি প্রস্থ স্থাপন করেন এবং বাকেরগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস এস আই আকবরী উদ্বোধন করেন। তালা খুলতেই দেখা গেল মাকরশা বাসা বেধে রেখেছে সমস্ত ঘরে। ২ টি চেয়ার ৬ টি টেবিল, ৪টি বই র‌্যাকসহ প্রায় ২০০০ পিস পূরাতন বই চোখে পরে যা ঘরের এক কর্ণারে। মালামাল এক যায়গায় সরিয়ে রাখা হয়েছে । কারন ভবনের ছাদ, ভিম, পিলার সহ অসংখ্য স্থানে প্লেস্টার উঠে রড বের হয়ে আছে। যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে । চরফ্যাশন সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ কয়সর আহাম্মেদ দুলাল বলেন, জীবনে সফলতা অর্জন করতে হলে বেশ কিছু গুনাবলী বা দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। আর এ গুনাবলী বা দক্ষতা অর্জন করতে হলে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে হবে। আমাদের চরফ্যাশনের লাইব্রেরীটি বন্ধ থাকায় এ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত চরফ্যাশনের মানুষ। ৭৫% নি¤œ এবং মধ্যভিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রী ক্লাশের বাহিরে অন্যান্য বই ক্রয় করা কষ্টকর।
ফাতেমা মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী উম্মে হাবিবা আঁিখ বলেন, পাঠ্যবই পড়া মানেই নির্দিষ্ট একটি সেলেবাসের মধ্যে থাকা। নির্দিষ্ট পাঠ্য বইয়ের বাইরে অন্যান্য বই পড়লে অন্তরদৃষ্টি সুগঠিত হয় এবং আমাদের চিন্তা শক্তিকে রুচিশীল করে তাই এ সমাজের নতুন প্রজন্মের কথা চিন্তাকরে চরফ্যাশনের পাবলিক লাইব্রেরীটি যুগউপযুগী করে চালু করে যুব সমাজকে মাদকাশক্ত বা অন্যান্য খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানান।
জানাযায়, চরফ্যাশন পাবলিক লাইব্রেরীটির ১৩ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি রয়েছে। উক্ত কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি, সভাপতি- উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাধারণ সম্পাদ- মোঃ ফরহাদ।
এ লাইব্রেটির প্রায় ৩০ বছর দায়িত্বে থাকা লাইব্রেরীয়ান মোঃ ফরহাদ জানান ,আমার দেখামতে মরহুম অধ্যক্ষ মিয়া মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্যার, ডাঃ রফিকুল ইসলাম, বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ, কয়সর আহাম্মেদ দুলাল, মোজাম্মেল স্যার, মনির আহমেদ শুভ্রসহ অসংখ্য বই প্রেমী আসতেন উক্ত লাইব্রেরিতে। কিন্তু প্রায় ১ যুগেরও বেশি লাইব্রেরীটি বন্ধ। তাই এখন আর কেউ আসেন না।
আশার বিষয় হচ্ছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভবনটি ভেঙ্গে নতুন করে ভবন নির্মান করে বর্তমান যুগোপযোগি একটি পাবলিক লাইব্রেরী স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন । তবে তা এখনো বাস্তবায়ন হয় নি। লাইব্রেরীটি চালু হলে পাঠকদের মেধা, মনন, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারন ও লালন এবং যুব সমাজের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পাবলিক লাইব্রেরী অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে।