আমিনুল ইসলাম, চরফ্যাশন থেকে : ভোলার চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে উম্মুক্ত পরীক্ষায় নকলের মহাউৎসব চলছে। নকল করার দায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৮ পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করেছেন। পরীক্ষা চলা কালিন সময় বেশ কিছু বহিরাগত দেখা গেছে। তৃতীয় তলার সিরির উপর নকল করার হাতিয়ার হিসাবে কয়েকটি বই পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে জানাগেছে, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ ও রহিমা ইসলাম কলেজে ডিগ্রী বিএ ও বিএসএস পরীক্ষায় গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার প্রথম সেমিষ্টার পরীক্ষায় ২৩২জন, বিকাল ২টায় ৪র্থ সেমিষ্টার পরীক্ষায় ১৩৭জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছেন। সকাল ৯টার ডিগ্রী প্রথম সেমিষ্টার বাংলা পরীক্ষায় নকল করার দায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন ১২ জনকে এবং দুপুর ২ টায় ইসলামিক ষ্ট্যাডিজ পরীক্ষায় ৬ জনসহ মোট ১৮ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে কেন্দ্রের দায়িত্ব নিয়োজিত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও সহকারী শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলামকে ৩য় তলায় পরীক্ষার কক্ষের সামনে দেখা গেছে।

কেন্দ্রের তথ্য সূত্রে জানা যায়, ১ম সেমিষ্টার থেকে ৬ষ্ঠ সেমিষ্টার পর্যন্ত মোট ৬ শতাধিক পরীক্ষার্থী রয়েছে। প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে মোট ৮হাজার ২শ টাকা ফরম পূরণে আদায় করা হয়। প্রত্যেক সেমিষ্টার পরীক্ষার সময় হলে আলাদা ভাবে প্রবেশ পত্রের নামে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছে ৩ হাজার ৫০০শত টাকা করে হাতিয়ে নেয় পরীক্ষা কমিটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের জনৈক বিএ (¯œাতক) পরীক্ষার্থী বলেন, আমার কাছ থেকে প্রবেশ পত্রের নামে ৩ হাজার ৫০০টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। এত টাকার নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে পরীক্ষা কমিটি আমাকে বলেন, বোঝেন তো ভাই কত জনকে ম্যানেজ করতে হয়। সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারা আমাদের নাম বলবেন না। বললে সামনের সেমিষ্টার পরীক্ষা গুলোতে সমস্যা করবে।

কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ¯œাতক প্রথম সেমিষ্টারের পরীক্ষা চলাকালীন নকলের দায়ে ১৮ জন পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে। প্রবেশপত্রে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যপারে আমার জানা নেই, তা পরীক্ষা কমিটি বলতে পারে।

কেন্দ্রে দায়িত্ব নিয়োজিত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, পরীক্ষা কমিটির সদস্য ফারুক রানার সাথে আমার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগে দেয়ার ঘটনা নিয়ে কথার কাটাটি হয়েছে। তারা নিয়ম মানতে চায়না।