অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর নিকেতনে যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ এফডিআর চেক, নগদ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে গুলশানের নিকেতনে ডি ব্লকের ৫ নম্বর রোডের ১৪৪ নম্বর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

শামীমের অফিসের ভেতর থেকে নগদ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর চেক উদ্ধার করা হয়। এছাড়া প্রচুর পরিমাণ গুলি, ম্যাগজিন ও মাদক উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, অভিযানে বিপুল পরিমাণ টাকা ও একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে বিদেশি মদের বেশ কয়েকটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

নিকেতনের ওই বাসায় শামীমের কোম্পানির নাম জি কে বি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড। নিকেতন এলাকাতে শামীমের আরেকটি বাসা আছে। ওখান থেকে তাকে ডেকে নিয়ে তার অফিসে আসা হয়। তাকে নিয়ে এখানে অভিযান চালায় র‌্যাব। পরে জি কে শামীমকে তার সাত দেহরক্ষীসহ আটক করা হয়।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, জি কে শামীমের কোনো পদ নেই যুবলীগে। তিনি নিজেই নিজেকে যুবলীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বলে বেড়াতেন।  অভিযোগ রয়েছে, সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে শামীমই ছিলেন ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি। তিনি এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এর আগে গত বুধবার রাতে রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবেঅবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

এদিকে যুবলীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটকের পর কড়া প্রহরায় র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।  শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।