ইসতিয়াক আহমেদ : মা ইলিশ রক্ষার জন্য আজ মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ভোলার মেঘনা-তেতুলিয়ার ১৯০ কিলোমিটারসহ উপকূলীয় ৭ হাজার কিলোমিটার জলসীমায় ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করার জন্য বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও আশ্বিনের পূর্ণিমা লক্ষ্য রেখে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর।
এ সময় ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য অধিদপ্তর কোস্টগার্ড, নৌপুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সহায়তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন মৌসুম হচ্ছে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমা। এ সময় ডিম ছাড়ার জন্য ৭০-৮০ ভাগ মা ইলিশ গভীর সাগর ছেড়ে মিঠা পানির নদীতে চলে আসে। পূূর্ণিমার আগে সাগর ছেড়ে নদীতে প্রবেশের সময় এবং পূর্ণিমার পরে নদী থেকে আবার সাগরে চলে যাওয়ার সময় জেলেদের জালে মা ইলিশ ধরা পড়ে। তাই মা ইলিশের আসা-যাওয়া নির্বিঘœ করতে পূর্ণিমার আগে ১৭ দিন এবং পরে ৪ দিন অর্থাৎ মোট ২২ দিন ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা আরোপিত প্রজনন পয়েন্টগুলো যথাক্রমে উত্তর-পূর্বে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার শাহেরখালী থেকে হাইতকান্দী, দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া-গÐমারা পয়েন্ট, উত্তর-পশ্চিমে ভোলার তজুমুদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমুদ্দিন-সৈয়দ আশুলিয়া পয়েন্ট এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী পয়েন্টে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ জলসীমার জেলাগুলো হলো- চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ল²ীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও গোপালগঞ্জ।
তবে মৎস্য বিভাগের গবেষণা অনুযায়ী ইলিশের মূল উৎপাদন কেন্দ্র হলো- চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলা সংলগ্ন নদীগুলো। ইলিশের সবকটি অভয়াশ্রম এ জেলা সংলগ্ন নদীগুলেকে ঘিরে। তাই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে বরিশাল বিভাগ ও চাঁদপুর জেলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর।